অরুচি-বমিভাব-সহ নানা রোগ দমনে বেতো শাক

Beto Shaak

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বেতো শাক দু-ধরনের হয়ে থাকে। সাদা ও লাল পাতা যুক্ত দু-রকমের বেতো শাক দেখা যায়। স্থানীয় বাজারগুলিতে সাদাটি বেশি পাওয়া যায়। এই ধরনের শাক আমরা খেয়ে থাকি। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই শাকে এক ধরনের তেল থাকে, তা অন্ত্রকে পরিষ্কার করে থাকে। এছাড়া মূত্রগ্রন্থির ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং লিভারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। বেতো শাকে ভিটামিন-এ, সি, অ্যাসকারিডল ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, যকৃতের ক্রিয়াহ্রাস পাওয়ার কারণে দেখা যায়- খিদে ঠিক মতো হয় না। এক্ষেত্রে খিটখিটে হয়ে যায় মেজাজ। পাশাপাশি অরুচি, হিক্কা ও বমিভাব দেখা দেয়। এর সঙ্গে থাকে কোষ্ঠবদ্ধতা। এরকম শারীরিক অবস্থা দেখা দিলে, ৫০ গ্রাম বেতো শাক ছোট ছোট করে কেটে ভালভাবে ধুয়ে পরিমাণমতো নুন দিয়ে অল্প জলে সিদ্ধ করে খাওয়া যেতে পারে।

জলসমেত সকালে জলখাবারের পর একবার ও বিকেলের দিকে একবার মাসখানেক খেলে উপকার পাওয়া যায়। এমনকী তরকারি রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। ভাত বা রুটির সঙ্গে এটি খেলে উপকার মেলে। আবার ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম বেতো শাক নুন দিয়ে ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ পরিমাণ হলে নামিয়ে ঠান্ডা জলে চটকে ছেঁকে নিয়ে সেই শাকসিদ্ধ জলটি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

যাঁরা কোষ্ঠবদ্ধতায় ভুগতে থাকেন, ক্রমাগত ওষুধ না খেয়ে কিছুদিন বেতো শাক খাওয়া অভ্যাস করতে পারলে ফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এতে দাস্ত ও প্রস্রাব দুই পরিষ্কার হবে। অর্শের ক্ষেত্রে শাক হিসেবে রান্না করে খেলে বা ৫০ গ্রাম শাক সিদ্ধ করে প্রত্যহ একবার করে খেলে একই কাজ হবে। লাগাতার মাসখানেক খেতে হবে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা জানান, অর্শে রক্ত পড়লে বেতো শাকের রস ২০ মি.লি. অল্প গরম করার পর ঠান্ডা হলে তাতে সামান্য ঠান্ডা দুধ মিশিয়ে দিনে ২ বার করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

এক্ষেত্রে দুধের জায়গায় ১০ থেকে ১৫ ফোঁটা মধু-সহও খেতে পারেন। রক্ত পড়া বন্ধ হলে কেবল তরকারি খেলেই উপকার মিলবে। টক দই দিয়ে বেতো শাকের রায়তা বানিয়েও খাওয়া যায়। বেতো শাক সারা বছর মেলে না। কিছুটা শুকিয়ে নতুন পাতলা কাপড়ের ব্যাগে রেখে দেওয়াও যেতে পারে। এক্ষেত্রে হালকা রোদে তা রাখা উচিত। শাক সিদ্ধ জল নিয়মিত কিছুদিন খেলে পুরনো আমাশাও সেরে যেতে পারে।

এই জলটি ২-৩ মাস ধরে খেলে দুর্বলতাও কমে যায়। স্মৃতিশক্তিরও বিকাশ ঘটতে থাকে। এছাড়া বেতো শাকের রস এক কাপ, তিল তেল ২ কাপ ও জল ৩ কাপ একসঙ্গে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে শিশিতে ভরে রাখা যেতে পারে। এটি মাঝে মধ্যে মাথায় লাগিয়ে দু-ঘন্টা পরে স্নান করাও যায়। এক্ষেত্রে উকুন- খুসকি দমন হবে। এমনকী মাথার চাপড়া ঘা থাকলে তা সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *