মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলেই ক্ষতিগ্রস্ত ওজোন স্তর

Ozone day

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ আজ বিশ্ব ওজোন(O3) দিবস (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০)। বিশ্ব ওজোন দিবসে, এই প্রাকৃতিক ঢালটির মূল্য গুরুত্ব সহকারে আমাদের বুঝতে হবে। ওজোন(O3) মানে পৃথিবীর আচ্ছাদন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বায়ুস্তর যা ওজোন স্তর নাম পরিচিত। এই বর্ণহীন গ্যাসের স্তর পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ওপর (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার) পর্যন্ত সারা পৃথিবীকে আবৃত করে রেখেছে। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয় এই ওজোন স্তর।

ওজোন স্তরটি প্রথম ফরাসী পদার্থবিদ চার্লস এবং হেনরি ১৯১৩ সালে আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন যে, সূর্য থেকে পৃথিবীতে পৌঁছতে পারে এমন বিকিরণ কি কারণে পৃথিবীর অভ্যন্তরে কোনও ক্ষতি করতে পারে না, কারণ সেই তাপমাত্রা প্রায় ৫৫০০-৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত হতে পারে। এই ওজোন স্তর সূর্যের মাঝারি ফ্রিকোয়েন্সির অতিবেগুনী রশ্মিকে ৯৭-৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৃথিবীতে পৌঁছতে দেয় না এবং পৃথিবী বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

১৯৭৬ সালে করা আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মানুষের ক্রিয়াকলাপের কারণে ওজোন স্তরটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হচ্ছে। ওজোন স্তর নিয়ে গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, এই স্তরটি ধ্বংস হওয়ার মূল কারণগুলি হচ্ছে গ্যাস, যা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত হয়। এতে ক্লোরিন, ব্রোমিনের মতো দুটি উপাদান রয়েছে যা ওজোন স্তরটির প্রভূত ক্ষতি করছে এবং যার কারণে এই স্তরটি আরও পাতলা হয়ে যাচ্ছে। মেরু অঞ্চল এবং অ্যান্টার্টিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সুপারসনিক জেট প্লেনও এই ওজোন স্তর ক্ষতির একটি প্রধান কারণ। ১৯৭০ সালে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন। কারণ প্রায় প্রতিটি বড় বিমানই নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন করে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুপারসনিক ট্রান্সপোর্টও স্থগিত করতে হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে আমেরিকান রসায়নবিদ মারিও এবং শেরউডের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC), ফ্লোরিন এবং ক্লোরিনের পরমাণুযুক্ত গ্যাস ওজোন স্তরকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

১৯৮৫ সালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছিল যে, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অ্যান্টার্টিকায় পরিস্থিতি ৬০ শতাংশ বেশি পরিমানে খারাপ হচ্ছে। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ওজোন স্তরটি পাঁচ শতাংশ বৈশ্বিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। সমাজের প্রতিটি স্তরেই আমাদের সতর্ক হতে হবে। কারণ ওজোন স্তরটি কেবল কোনও একটি শহর বা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, আমাদের সকলের জন্য এটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। কারণ ওজোন স্তরটি প্রতিনিয়ত পৃথিবীকে রক্ষা করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *