উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারে একাধিক সমস্যা বাড়তে পারে
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ পেশী এবং দেহ গঠনে প্রোটিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যদি শরীরে প্রোটিন কম থাকে তবে পেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শরীরও কম শক্তি বহন করে। এতে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রোটিন সমৃদ্ধ ডায়েট রাখা খুব জরুরি। এটি ওজনও হ্রাস করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওজন হ্রাস করার জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যা প্রতিদিন প্রোটিন খাওয়ার পরিমাণ ছাড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই ধরণের ডায়েটে দেহে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কেবলমাত্র একটি প্রোটিন ডায়েটই দেহে বড় বড় রোগের কারণ হতে পারে। ২০১৩ সালে এনসিবিআই-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, মাংস বা প্রোটিন পরিপূরকের মতো উচ্চ প্রোটিন শরীরে একাধিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ উচ্চ প্রোটিন শরীরে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে, যা ক্যালসিয়াম কমায় এবং হাড় ক্ষয় করতে সহায়তা করে।
গবেষণায় আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হাড়ের ব্যথা বা আঘাত নিরাময়ে প্রাণীজ প্রোটিনের চেয়ে বেশি সহায়ক। ডায়েটে উচ্চ অ্যানিম্যাল প্রোটিন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে মাছ, ডিম বা বাদাম জাতীয় খাবার এই সমস্যা তৈরি করে না। বেশ কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কিডনির সঙ্গে উচ্চ প্রোটিন ডায়েটের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। এই জাতীয় ডায়েট কিডনিতে পাথর জমার কারণ হতে পারে। এতে ইউরিক অ্যাসিডও বাড়তে পারে। যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কম প্রোটিনযুক্ত খাবারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উপর জোর দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, রেড মিট খেলে কোলেস্টেরল ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে কিছু সময়ের জন্য পেশী তৈরি করতে বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিরাময়ের জন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য দেওয়ায় কোন সমস্যা নেই। তবে এই ডায়েটটি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুসরণ করা হয় তবে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

