যুবকদের হাত ধরে পদ্ম চাষে বেকারদের নতুন আয়ের দিশা

Lotus Furm

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : করোনার জেরে কাজ হারিয়েছেন অনেক মানুষ। এই রাজ্যের অনেকের মতোই ধনেখালির দশঘড়ার ৫ জন যুবকও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। ডিভিসি-র পরিত্যক্ত নয়ানজুলির পাশে বসে এই সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করছিলেন তাঁরা। এরপর নতুন পেশায় প্রবেশ। নেমেও পড়লেন কাজে। ফুটতে দেখা গেল ফুল। এরপরই আয়ের দরজা খুলে গেল।

স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, ওই যুবকদের দেখানো পথে আয়ের নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন এলাকার আরও অনেক যুবক। জানা গিয়েছে, ওই যুবকরা কেউ বিভিন্ন জায়গায় রান্না করতেন, আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করতেন। করোনা পর্বে কাজ হারিয়ে দিশাহারা হয়ে যান। ওই ৫ জন যুবক হুগলি ও বর্ধমান জেলার সংযোগস্থলে শ্রীকৃষ্ণপুরে এক পরিত্যক্ত নয়ানজুলিতে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নিলেন। নয়ানজুলি পরিষ্কার করে পদ্ম ফুলের চাষ শুরুও করলেন।

মাত্র ২-৩ হাজার টাকার মতো হাতে নিয়ে তাঁরা নেমে পড়লেন ওই জলাশয়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই ফুটতে শুরু করল পদ্মফুল। পদ্মের চাহিদা বাড়তে থাকায় সাফল্য এল। ভাল উপার্জনও হতে শুরু করে। এই ঘটনা দেখে গ্রামের অন্য যুবকরাও উৎসাহিত হয়েছেন পদ্ম চাষে। ওই ৫ জন যুবকের মধ্যে রয়েছেন গণেশ মালিক। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠান বাড়িতে রান্নার কাজ করতাম। করোনা আবহে কাজ হারিয়ে আমরা ৫ জন পদ্মফুলের চাষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম। প্রত্যেকের সংসারে অভাব রয়েছে। আমরাই ওই নয়ানজুলি পরিষ্কার করি। প্রায় ৩ বিঘার জলাশয়ে ৭০টি পদ্ম গাছ লাগিয়েছিলাম। পদ্ম ফুটতেই স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীদের নজর পড়ে।

এ বিষয়ে তাঁর আরও বক্তব্য, সারা বছরই পদ্মফুলের চাহিদা থাকে। দুর্গাপুজোর সময় ভাল দামও পাওয়া যায়। প্রতিটি ফুলের দাম ৮ থেকে ১০ টাকা। আবার পদ্মপাতার দাম ১ টাকা। এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে জলাশয়ে মাছ চাষের সঙ্গে পদ্ম চাষও করা যায়। আগামী দিনে পদ্ম চাষ বেকারদের নতুন আয়ের দিশা দেখাবে বলেও মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *