দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পুজোই “নবরাত্রি” জেনে নিন বিশদে

naboratri and durgapuja

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: শুরু নবরাত্রি।পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর আবহে বাংলার বাইরে পশ্চিম ভারতে নবরাত্রি পুজো হয়ে থাকে। এই বছর নবরাত্রি শুরু হয়েছে ১৭ অক্টোবর থেকে।তা চলবে ২৬ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত। শরৎকালে এই উত্‍সব হয়ে থাকে বলে একে শারদ নবরাত্রিও বলা হয়। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত ৯ রাত্রি পর্যন্ত দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত দুর্গার নয়টি শক্তির যে পুজো করা হয় তা নবরাত্রি হিসাবে পরিচিত।পুরোহিত বা শাস্ত্রবিদরা বলছেন, যে দিন যার পুজো, সেই মূর্তি স্মরণ করে নিয়ম মেনে পুজো করলে ফল মিলবে। তবে পবিত্র মনে সেই পুজো করতে হবে। নবরাত্রি আরাধনায় অবশ্যই ফল পাওয়া সম্ভব হবে। জানা যায়, ৯ দিনের এই উৎসবে কোন দিন কোন দেবীকে দুর্গারূপে পুজো করা হয়। শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত ৯ রাত্রি পর্যন্ত দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়ে থাকে। প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত নয় রাত্রি ধরে দুর্গার নয়টি শক্তির যে পুজো হয় তা নবরাত্রি ।শাস্ত্রের বিধি মেনে বলা হয়ে থাকে, নবদুর্গার প্রথম রূপটি হল শৈলপুত্রী। পর্বত কন্যা হিসাবে পরিচিত।এক্ষেত্রে মা শৈলপুত্রী মনোবল বৃদ্ধি করে থাকেন। আবার দ্বিতীয় রূপটি হল – ব্রহ্মচারিণী। তিনি ব্রহ্মাকে স্বয়ংজ্ঞান দান করে থাকেন। ভক্তকেও ব্রহ্মপ্রাপ্তির পথ দেখান। মা ব্রহ্মচারিণী মনোসংযোগ বৃদ্ধি করাতেও সাহায্য করেন। এরপর তৃতীয় রূপটি হল – চন্দ্রঘণ্টা। দেবীদুর্গার মহিষাসুর বধের জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের প্রদত্ত ঘন্টা এটি। যার মধ্যে গজরাজ ঐরাবতের মহাশক্তি নিহিত থাকে। চন্দ্রের চেয়েও সে লাবণ্যবতী । মা চন্দ্রঘণ্টা সাংসারিক সমস্ত কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। চতুর্থ রূপ হচ্ছে- কুষ্মণ্ডা। উষ্মার অর্থ তাপ । ত্রিতাপ হল কুষ্মা। যিনি এই ত্রিতাপ নিজের উদরে ধারণ করেন। মা কুষ্মণ্ডা সুখ ও সমৃদ্ধি দিয়ে থাকে।
পঞ্চম রূপটি হল – স্কন্দমাতা। দেব সেনাপতি কার্তিকেয় বা স্কন্দের মা। মা স্কন্দমাতা গৃহের যে কোনও রকম অশান্তি বিনাশ করে থাকেন। আবার ষষ্ঠরূপ হল -কাত্যায়নী। কাত্যায়ন ঋষির আশ্রমে দেবকার্যের জন্য আবির্ভূতা হন। বৃন্দাবনে দেবী গোপবালা রূপে পূজিতা তিনি । কথিত রয়েছে,ব্রজের গোপবালারা এই কাত্যায়নীর কাছে প্রার্থনা করেন শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে পাওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে ব্রজের দুর্গার নাম হল কাত্যায়নী । মা কাত্যায়নী শত্রূ নাশ করেন।সপ্তম রূপ হল – কালরাত্রি। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে,পরমাত্মাই রাত্রিদেবী। মহাপ্রলয়কালে এই রাত্রিরূপিণী মাতার কোলেই নত হয় বিশ্ব।অনন্ত মহাকাশে নৃত্যরত কালভৈরবের দেহ থেকেই আবির্ভূতা হন দেবী যোগনিদ্রা মহাকালিকা বা কালরাত্রি। মা কালরাত্রি অল্প বয়সে কোনও বিপদ থাকলে তা নাশ করেন।এরপর রয়েছে অষ্টম রূপ -মহাগৌরী। যিনি শিবসোহাগিনী। মা দুর্গার প্রসন্ন মূর্তি । বিবাহজনিত কোনও সমস্যায় তাঁর ধ্যান করায় শুভ ফল মেলে বলে জানা গিয়েছে। নবম রূপ হল – সিদ্ধিদাত্রী। অপরূপ লাবণ্যময়ী চতুর্ভুজা এবং ত্রিনয়নী। সকল কাজে সিদ্ধি প্রদান করেন। মা সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজিত হন। নিষ্ঠা ও ভক্তিতে পুজো করলে জীবনে সাফল্য পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *