শীতকালে সাইনাস সমস্যার উপশমে ঘরোয়া দাওয়াই

sinus and prolem

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:শীতকালে সাইনাসের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এ থেকে উপশম পেতে কাজ দেয় ঘরোয়া কিছু দাওয়াই।
এই ঘরোয়া টোটকাগুলি ঘরে বসেই করে নিতে পারবেন। ঋতু পরিবর্তন হলে বা শীত পড়ার সময়ে এই সমস্যা বেড়ে যায়। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন,সাইনাস শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যা বায়ু চলাচলে সাহায্য করে থাকে। নাকের দুই পাশে ও চোখের তলার হাড়ে ও উপরের দুই অংশ জুড়ে এটি অবস্থান করে । সাইনাস হল ফাঁকা গহ্বর বা গর্ত বিশেষ। এটি ভিতর থেকে মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি নামে একটি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত করা থাকে। এই শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে বিভিন্ন সময়ে ইনফেকশন হতে পারে। এমনকী এতে অ্যালার্জি হলে সাইনাস ব্লকেজ তৈরি করে থাকে।

এক্ষেত্রে ব্লকেজ তৈরি হলে যখন সাইনাসে বায়ু চলাচল করতে পারে না, তখন এটি ভিতর থেকে চাপ দিতে শুরু করে। যার জন্য মাথা যন্ত্রণা ও চোখের তলার অংশে যন্ত্রণা হতে থাকে। এই সমস্যা ছোট-বড় সবার হতে পারে। মূলত শীতকালে এই সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে বাড়িতেই কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ন্যাজাল ফ্লাশিং সাইনাসের এই ব্যথা থেকে উপশম পেতে হলে সাইনাসের ব্লকেজগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এক নাক থেকে জল টেনে অন্য নাক থেকে বের করলে শ্লেষ্মা ঝিল্লি বা মিউকাস মেমব্রেনস আর্দ্র থাকে। এরফলে এই সমস্যা দূর হয়। এই পদ্ধতি মেনে চললে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাও দূর হয় । এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, ন্যাজাল ফ্লাশিং-এর জন্য একটি পাত্রে গরম জল ঠাণ্ডা করে রাখতে হবে। পাত্রের মুখ সরু হলে ভাল হয় । এ বার মাথা সিঙ্কের কাছে নিয়ে গিয়ে বাঁ-দিকে হেলাতে হবে। পাত্রের সরু মুখটি ডান নাকের কাছে নিয়ে এসে নাকের ভিতরে জল প্রবেশ করাতে হবে।

এরপর অন্য নাক থেকে তা বের করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নাক পরিষ্কার হবে। পাশাপাশি মাথা যন্ত্রণা বা সাইনাসের নানা সমস্যাও দূর হয়ে যায়।
ভাপ নেওয়াও একটি পদ্ধতি। সাইনাসের অংশ শুকিয়ে গেলেও সাইনাসের যন্ত্রণা হতে পারে। সাইনাসকে আর্দ্র রাখার জন্য ভাপ নেওয়া হয়ে থাকে। এটি সহজেই বাড়িতে করা যেতে পারে। ভাপ নেওয়ার জন্য একটি পাত্রে গরম জল নিতে হবে। কিছুটা উপরে মুখ রেখে, মাথা ও পাত্র একটি মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। একটি নাক থেকে শ্বাস নেওয়ার পর অপর নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে। ২-৩ মিনিট ধরে এটি করলে সাইনাস আর্দ্র হয়ে যায়। বিশ্রাম নেওয়াও উপকারী হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে বা মাথা তুলতে না পারলে শুধু ভালো করে বিশ্রাম নিলে ব্যথা সেরে যেতে পারে। ভালো করে ঘুম হলেও কাজ হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, শরীর শুকিয়ে গেলে সাইনাস শুকিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি। সারা দিনে পরিমাণ মতো জল খেলে এই সমস্যা দূর হতে পারে। এই সময় হালকা গরম জল খেলে উপকার পাওয়া যায় । এটি ন্যাজাল মিউকাস ভেলোসিটি বাড়িয়ে সাইনাস বের করে দিতে সাহায্য করে।
মাথা উঁচু রেখে ঘুমানোতেও উপকার পাওয়া যায়। ঘুমানোর সময় একটু সতর্ক থেকে বেশি উঁচুতে মাথা রেখে ঘুমলে সাইনাস পরিষ্কার হতে পারে।
যোগ অভ্যাস ও অন্যান্য শরীরচর্চা করলেও ফল পাওয়া যায়। যোগ অভ্যাস, ধ্যান করা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরকে চিন্তামুক্ত রাখতে সাহায্য করে। শরীরচর্চা প্রতি দিন করলে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। পাশাপাশি শ্বাস নিতেও সমস্যা হবে না। ফেসিয়াল মাসাজ করলেও উপকার পাওয়া যায়, এমনটাই অনেকে মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *