জেনে নিন ঘাড় ও পিঠের ব্যথার উপশমে রয়েছে কিছু ব্যায়াম
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা দেশে। এই সময় একটানা বাড়ি বসে কাজ করতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় একটানা ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। ঘাড় বা পিঠের ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক। এ সবের উপশমে কিছু ব্যায়াম রয়েছে যা কাজ দেবে এই সময়। কম্পিউটারের সামনে একটানা কাজ করতে করতে নাকাল হচ্ছেন বহু মানুষ। এক্ষেত্রে ঘাড় বা পিঠে যন্ত্রণা অনুভব করতেই পারেন।
কোভিড আবহে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রোজকার অফিস যাওয়ার বিষয়টি আপাতত স্থগিত। অনেক কর্মীর অফিস এই সময়ে উঠে এসেছে বাড়িতে। ঘরে বসে মেইল পাঠানো, মিটিং সহ বিভিন্ন কাজ সেরে নিচ্ছেন অনেকেই । সময় বাঁচানো সহ নিত্য যাতায়াতের ধকলও নেই। তবে কিছু সমস্যা থাকছেই ৷ ঘাড় ও পিঠের যন্ত্রণা অনুভব করা সহ অনেকেরই শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রকম সমস্যা।
এই সব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ৷ তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। যেমন-একটানা কাজ করতে করতে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো ব্যায়াম রয়েছে। তা দেখে নেওয়া যাক। পিছনে ভর দিয়ে শুয়ে, নিজের দুই হাঁটু নিজের বুকের কাছে তুলে এনে, নিজের মাথা পায়ের কাছে নিয়ে আসতে হবে। এই পদ্ধতিতে ঘাড় ও পিঠের ব্যথায় উপকার পাওয়া সম্ভব। উপশম হবে ব্যথাও।
আবার একটানা কাজ করতে করতে অনেক সময়ই পায়েও টান ধরতে পারে ৷ এই পরিস্থিতিতে খুব সহজ উপায় হল- মাটিতে শুয়ে পা দুটিকে চেয়ারের ওপর তুলে দিলে অনেক সময় এটি উপশম হতে পারে। এক্ষেত্রে দু’ পায়ের হাঁটু একে অন্যটার থেকে পৃথক করে বেশ কিছুক্ষণ রাখতে হবে। বিছানাতেও এটি করা যেতে পারে। আবার বিছানায় শুয়ে পা দুটি বালিশ বা পাশবালিশের ওপর রাখলে ব্যথা থেকে মুক্তি সম্ভব। পায়ের বিশ্রাম যেমন
হবে তেমনই পিঠ ও কোমরের জন্যও এই ব্যায়ামে উপকার মিলবে।
অন্যদিকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিজের শরীরকে প্রথমে নিজের দুই হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে মেঝেতে রাখতে হবে। দুই গোড়ালির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখতে হবে। এরপর নিজের পেট শিরদাঁড়ার কাছ থেকে প্রসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নামিয়ে আনতে হবে মাটির কাছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের মাংশপেশিগুলির পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার এই ব্যায়ামের ক্ষেত্রে। দিনে ৫ বার এই ব্যায়াম করলে শরীরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণের ফলে পাওয়া যাবে স্বস্তি।
একনাগাড়ে কাজের ফলে হাতের মাংসপেশিতেও চাপ পড়তে পারে। প্রতিদিন ১০টা করে স্কোয়াট, চেয়ারে বসে হাতের ট্রাইসেপের ব্যায়াম ও খুব আলতো করে ঘাড় ঘুরিয়ে ব্যায়াম করলে পাওয়া যাবে ঘাড় ও হাতের মাংসপেশির সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়।
একটানা কাজের ফলে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কাঁধেও। সামনে ও পিছনের দিকে কাঁধের প্রসারণে অনেকটাই এই ব্যথা দূর হতে পারে ।
এই ধরণের ব্যায়াম পিঠ বা হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি দেয় না,আবার যে কোনও রকম মানসিক চাপ ও চিন্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করুন।

