মমতার মন্ত্রিসভায় একগুচ্ছ মহিলা মুখ

women and ministry

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: মমতার মন্ত্রিসভায় নারীশক্তি। এবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ বাংলার ৯ জন মন্ত্রী হয়েছেন। নারীশক্তিকে অগ্রাধিকার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রিসভায় শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, শিউলি সাহা-সহ একগুচ্ছ মহিলা মুখ । জায়গা পেয়েছেন জঙ্গলমহলের তিন মহিলা তৃণমূল বিধায়কও। এভাবেই নারী শক্তির ক্ষমতায়নের এক অন্য ছবি দেখা গেল মমতা নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের।

একুশের নির্বাচনী প্রচারে স্লোগান ছিল- “বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়”। এবার সেই ছবি মন্ত্রীসভাতেও। ক্যাবিনেট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখা গেল ৮ জন মহিলা মুখকেও। মমতা ক্যাবিনেটে মহিলা মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জন। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে মহিলাদের মধ্যে শপথ নিলেন- প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, সন্ধ্যারাণী টুডু, শিউলি সাহা, ইয়াসমিন সাবিন, বীরবাহা হাঁসদা ও জোৎস্না মান্ডি।

গত রাজ্য মন্ত্রিসভায় শশী পাঁজা উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেন। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।” শিউলি সাহার মন্তব্য, “দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ আগেও পেয়েছি। তিনবার বিধায়ক হয়েছি। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়ে আনন্দ হচ্ছে।”

জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম– এই তিন জেলার জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার উন্নয়নের জন্য সন্ধ্যারানি টুডু, জ্যোৎস্না মান্ডি ও বীরবাহা হাঁসদাকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হল। এবার কোনও পুরুষ নয়, এবার শুধু এই তিন মহিলাই মন্ত্রী হলেন। জ্যোৎস্না মান্ডি ২০১৬ সালে প্রার্থী হয়েই প্রথম রাজনীতির অঙ্গনে পা রেখেছিলেন। বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডির মন্তব্য,“মেয়েরা শুধু হেঁশেল সামলায় তা নয়। সব কাজ করতে পারে। দিদি আমাদের উপর আস্থা রাখায় আমরা কৃতজ্ঞ।”

পাশাপাশি পুরুলিয়ার মানবাজারের তিনবারের বিধায়ক সন্ধ্যরানি টুডু এবার জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন। এবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তিনি । ২০১৬ সালে সন্ধ্যারানি টুডু অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০১১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর ২০১২ সালে পরিষদীয় সচিব হয়েছিলেন । বিধায়ক সন্ধ্যারানি টুডু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন,“আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি যথাযথ ভাবে পালন করব। এই জঙ্গলমহল থেকে আরও দুই রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পাচ্ছেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের দু’বারের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও ঝাড়গ্রামের তারকা বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা। সন্ধ্যারানি টুডু অতীতে রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও জ্যোৎস্না ও বীরবাহা হাঁসদা এবারই প্রথম মন্ত্রী হচ্ছেন।”

বীরবাহা সাঁওতালি চলচ্চিত্র জগতের নায়িকা। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছে পূর্বেই । উল্লেখ করা যায়, ঝাড়খণ্ড পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি । এই দলের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বাবা প্রয়াত নরেন হাঁসদা। মা চুনিবালা হাঁসদাও ছিলেন বিধায়ক। তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠা করা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। বীরবাহা হাঁসদার প্রতিক্রিয়া,”নিজের এলাকার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। জঙ্গলমহলে উন্নয়ন ২০১১ সাল থেকেই হয়ে আসছে। আরও সুন্দরভাবে কীভাবে কাজ করা যায়, তার চেষ্টা করব।”

শপথ গ্রহণের আগে আপ্লুত রত্না দে নাগ। মন্ত্রী হওয়ার পর সাবিনা ইয়াসমিন মন্তব্য করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলার মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দল পরিবর্তন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। মালদার উন্নয়নে আমি চেষ্টা করব।”

মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *