সুগার ফলের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

blood sugar

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ কোনও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে সুগারের মাত্রা ৭০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নীচে নেমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ ‘সুগার ফল’ বলে। এই সময় মাথা ঝিমঝিম, বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, লক্ষণগুলি দেখা দেয়। এর জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী থাকে ডায়াবেটিসের ইনসুলিন নামক পুরনো ওষুধ। এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের পর কম খেলে বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে শরীরে গ্লুকোসের মাত্রা কমে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি করে। নতুন ওষুধে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম থাকে। দিনের যে কোনও সময়ই হতে পারে এই হাইপোগ্লাইসেমিয়া। তবে মাঝরাতে এবং ভোরবেলায় সুগার ফল বেশি হতে দেখা যায়। রাতে ঘুমের মধ্যেও এই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ‘সুগার ফল’ সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা জটিল হতে পারে। বিশেষত, ঘুমের মধ্যে ‘সুগার ফল’ এর তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রাণ নিয়ে সংকটে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের দরুণ স্নায়ু দুর্বল হওয়ার কারণে ‘সুগার ফলের’ লক্ষণ বেশ কিছুটা সময় পরে বোঝা যায়। তাই কিছু ক্ষেত্রে ‘সুগার ফল’ হওয়ার পরও রোগীর ঘুম ভাঙে না। ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনির রোগ থাকলে ‘সুগার ফল’ এর আশঙ্কা থাকে বেশি। কারণ, ডায়াবেটিসের অনেক ওষুধ এবং ইনসুলিন কিডনির দ্বারা মূত্রের সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনির সমস্যা থাকলে এই ওষুধ বা ইনসুলিন শরীর থেকে বেরতে পারে না। তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখামাত্র চিনি বা গ্লুকোজজাতীয় খাবার খেলে সুগার লেভেল কিছুক্ষণের মধ্যেই বেড়ে যায় এবং ‘সুগার ফল’ এর প্রভাব কমে। এরপর অবশ্যই নিজের চিকিৎসককে ঘটনার কথা জানাতে হবে। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা ঘুম না ভাঙলে চিনি বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় যত তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার থেকে দূরে থাকতে হলে পরিমিত খাবার, ব্যায়াম এবং ওষুধের মধ্যে সমতা আনতে হবে। খুববেশি কম খাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা যাবে না। ব্যায়াম করার আগে সুগার চেক করতে হবে। কম থাকলে রুটি বা অন্য কোনও শর্করা জাতীয় খাবার খেয়ে ব্যায়াম করতে হবে। সকালে হাঁটতে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে অবশ্যই গ্লুকোজ নিয়ে হাঁটতে যাওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে ভোরের দিকে সাইলেন্স সুগার ফল হয় তা বোঝাও যায় না। তাই দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ভোরে ঘুম থেকে উঠে সুগার লেভেল মেপে নেওয়া জরুরি। একবার ‘সুগার ফল’ হলে সেদিনই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *