সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার দিশা

Civil Service Students

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : এবছর জুনের শেষে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন এই পরীক্ষার মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় আধিকারিকদের। যাঁরা দেশের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম করে থাকেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে সাহায্য করে থাকেন। উল্লেখ করা যায়, প্রতি বছর কয়েক লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। যার মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয় উপযুক্তদের।

বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে জানিয়েছেন, এই পরীক্ষায় সফল হওয়ার চাবিকাঠি- ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পরিকল্পিতভাবে পরিশ্রম।
পরীক্ষার ধরণ-ধারণ : ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস-এ যোগ দিতে হলে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) পরিচালিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসতে হবে। রাঙ্ক অনুযায়ী এই পদে যোগ দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে পরীক্ষার ৩টি ভাগ রয়েছে। যেমন- প্রিলিমিনারি, মেনস ও পার্সোনালিটি টেস্ট।

এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় অবজেক্টিভ টাইপ আর মেনস হয় লিখিত পরীক্ষা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দুটো পেপার থাকে। জেনারেল স্টাডিজ (জিএস) ও সিভিল সার্ভিসেস অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট (সিস্যাট)। প্রত্যেক পেপার ২০০ নম্বরের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সময় ২ ঘন্টা। পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকে। আবার জিএস-এ প্রশ্ন থাকে- কারেন্ট ইভেন্টস অব ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইমপর্ট্যান্স, হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মুভমেন্ট, ইন্ডিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড জিওগ্রাফি (ফিজিক্যাল, সোশ্যাল, ইকনমিক জিওগ্রাফি অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড), ইন্ডিয়ান পলিটি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (কনস্টিটিউশন, পলিটিক্যাল সিস্টেম, পঞ্চায়েতি-রাজ, পাবলিক পলিসি ও রাইটস ইস্যুজ প্রভৃতি), ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট, পভার্টি, ইনক্লুশন, ডেমোগ্রাফিক্স ও সোশ্যাল সেক্টর ইনিশিয়েটিভস প্রভৃতি), জেনারেল ইস্যুজ অন এনভায়রনমেন্টাল ইকোলজি, বায়ো-ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং জেনারেল সায়েন্স থেকে। সিস্যাট পেপারটি কোয়ালিফাইং অর্থাৎ যোগ্যতা নির্ণায়ক।

অন্যদিকে থাকে- কম্প্রিহেনশন, কমিউনিকেশন স্কিলস, লজিক্যাল রিজনিং অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল এবিলিটি, ডিসিশন মেকিং অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং, জেনারেল মেন্টাল এবিলিটি ও বেসিক নিউমেরেসি (দশম শ্রেণির অঙ্ক), ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন (চার্ট, গ্রাফ, ডেটা সাফিশিয়েন্সি প্রভৃতি দশম শ্রেণির)। মেনস-এ থাকে প্রায় ৯টা পেপার। এক্ষেত্রে প্রথম দুটো কোয়ালিফাইং পেপার ৩০০ নম্বর করে। এছাড়া বাকি পেপারগুলি হল- পেপার-১ (এসে), পেপার-২ (জেনারেল স্টাডিজ ১- ইন্ডিয়ান হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার, হিস্ট্রি অ্যান্ড জিওগ্রাফি অব দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড সোসাইটি), পেপার-৩ (জেনারেল স্টাডিজ ২- গভর্ন্যান্স, কনস্টিটিউশন, পলিটি, সোশ্যাল জাস্টিস এবং ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস), পেপার-৪ (জেনারেল স্টাডিজ ৩- টেকনোলজি, ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট, বায়ো-ডাইভার্সিটি, এনভায়রনমেন্ট, সিকিয়েরিটি অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট), পেপার-৫ (জেনারেল স্টাডিজ ৪- এথিক্স, ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যাপ্টিটিউড), পেপার-৬ (ঐচ্ছিক বিষয়ের প্রথম পত্র), পেপার-৭ (ঐচ্ছিক বিষয়ের দ্বিতীয় পত্র)। এ বিষয়ে সবকটি পেপারই হয় ২৫০ নম্বরের। একেবারে শেষে থাকে ইন্টারভিউ পর্ব। এক্ষেত্রে থাকে ২৭৫ নম্বর। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, সাধারণ প্রার্থীরা প্রায় ৬ বার এই পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তফশিলি জাতি বা জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এ বিষয়ে স-বিস্তারে জানা যাবে ইউপিএসসি-র ওয়েবসাইট- www.upsc.gov.in-এ।

সূত্রের আরও খবর, সাধারণত ৮ থেকে ৯ লক্ষ পড়ুয়া সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার আবেদন করেন। প্রিলিমিনারিতে শেষ পর্যন্ত বসে চার-সাড়ে চার লক্ষ পড়ুয়া। প্রায় ৬ বার এই পরীক্ষায় বসা যায়। এরপর ১২ থেকে ১৪ হাজার পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ইউপিএসসি প্রশ্নপত্রের ধাঁচে নানা ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পলিটি ১০ থেকে ১৫টা প্রশ্ন দেওয়া হচ্ছে, আবার পরের বছর সেটা কমে হয়ে যাচ্ছে ৫টা।

এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, পুরনো বছরের পেপার দেখে পরীক্ষার ধাঁচ বুঝতে গেলে সমস্যা বাড়তে পারে। প্রিলিমিনারি স্তরটি মূলত স্ক্রিনিং-এর জন্য। অনেকে ভুল করে এই প্রথম স্তরটায় বেশি নজর দিয়ে থাকে। মেনস-কে কম গুরুত্ব দিতে থাকে। মেনস-এ বিভাগগুলি হল- ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি (ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি-সহ), জিওগ্রাফি, পলিটি, ইন্ডিয়ান ইকনমিক ইন ভায়রনমেন্ট প্রভৃতি। প্রিলিমিনারির প্রেপারেশন ছাড়াও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এর গুরুত্ব রয়েছে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়। ইংরেজি সংবাদপত্র ছাড়াও বেশ কিছু সংবাদপত্রে নজর দিতে হবে প্রস্তুতির জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *