অযথা ভয় না পেয়ে সামলে রাখুন উচ্চ রক্তচাপ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ বেশি বয়সের মানুষরাও করোনা মুক্ত হচ্ছেন। তাই অযথা করোনাকে ভয় পেয়ে রক্তচাপ বাড়াবেন না। সতর্ক থাকতে হবে আর সরকারি নিয়মবিধি কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। এসব ব্যাপারে অবহেলা মানেই করোনাকে নিমন্ত্রণ দেওয়া। যদিওবা সংক্রমণ ঘটে তা সকলের জন্য একই রকম হবে না। অনেকেরই প্রশ্ন, যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে কি ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে?
যদি কোনও ব্যক্তির দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে তাঁর এমনিতেই শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মূল ধমনী ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দুর্বল হওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সহজেই আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মস্তিস্ক, হৃৎপিণ্ড, কিডনিও সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কারণ ফুসফুস থেকে এই ভাইরাস সহজেই রক্তনালিতে প্রবেশ করে শরীরের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর প্রথমে ফুসফুস আক্রান্ত হয়। পরে হৃৎপিণ্ডকে আক্রমণ করে। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করার পর একধরণের প্রদাহ তৈরি হয়। এই প্রদাহ আসলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারই অঙ্গ। কিন্তু এই প্রদাহ বেশি হলেই বিপদ। এরফলে রক্তনালী স্ফীত হয়ে ভাসকুলাইটিস হওয়ার প্রবণতা থাকে। যারফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন ব্রেন, লিভার, হার্ট ও ফুসফুসে রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। যদি কারও আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগ থেকে থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকুলাইটিসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। হার্টের রক্ত বাহিত নালীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে।এই ভাইরাসের সংক্রমণ ফুসফুসে হওয়ায়, এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে সেগুলি দুর্বল হতে থাকে। এসবের জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে, নিয়মিত ব্লাড প্রেসার চেক করতে বলা হয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়ম করে ওষুধ খেতেও বলা হয়েছে। ওষুধ বন্ধ করলে চলবে না। শুধু কিছু নিয়মের হেরফের হতে পারে।
নুন কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিনে ৫ গ্রামের কম নুন খাওয়া যেতে পারে। মশলাদার খাবার বর্জন করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন রকমের সবজি সিদ্ধ করে ও কম তেলে রান্না করা খাবার খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কারণ এতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফোলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল ও ভিটামিন রয়েছে। যা শরীরের পক্ষে দরকার। কোনও একটি মরসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ডাক্তাররা।
দিনে অন্তত ৫ দিন ৩০-৩৫মিনিট খালিহাতে ব্যায়াম করতেও বলা হয়েছে। শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য এই ব্যায়াম খুবই জরুরি।

