স্বাস্থ্য-বিধি মেনেই নিষ্ঠা ও ভক্তিতে বর্ধমানের মন্ডল বাড়ির দুর্গাপুজো

burdwan kashful

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:বর্ধমানের মন্ডল বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়ে থাকে এখনও প্রাচীন রীতি-রেওয়াজ মেনে। একটা সময় ভিক্ষে করে এই পুজো শুরু হয়। তবে এবছর পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। বাড়িতে প্রতিমা এনে পুজো করার মতো অবস্থা নেই। অভাবের মধ্যেও মা দুর্গার আগমন ঘটে। ১২৭ বছর আগে বর্ধমানের কাঞ্চননগরের তাঁতি পাড়ায় দুর্গাপুজোর চল শুরু হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,বাড়িতে তাঁত কাপড় বুনে বিক্রি করে সংসার চলে। আবার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত কালীপুজোও হয়। পাঁচকড়ি মন্ডলের স্ত্রী সন্তান কামনায় দেবীর কাছে মিনতি করেছিলেন ।এরপর মা কালী স্বপ্নাদেশ দেওয়ার পর দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়।জানা যায়,স্ত্রীর কথায় কালীর পরিবর্তে দুর্গাপুজোর আয়োজন শুরু করেন তাঁতী পাঁচকড়ি মন্ডল। পুজোর এতো খরচ আসবে কোথা থেকে। মানত রক্ষায় শুরু হয়েছিল বাড়ি বাড়ি ভিক্ষে করা। ভিক্ষেরচাল-কড়ি একত্রিত করে কালী মন্দিরে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল দুর্গার। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়,পরিবারে এখন অনেকটাই স্বচ্ছলতা এসেছে। তবে ভিক্ষের প্রথা আজও চলছে।
এই পুজোয় মহাষষ্ঠীতে পালকি করে কলাবউ আনা হয়। কলাবউ প্রতিষ্ঠার পর পুজো শুরু হয়। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নির্ঘন্ট মেনে এই পুজো হয়ে থাকে। আত্মীয় -স্বজনদের উপস্থিতিতে পুজো অন্যমাত্রা পায়। কাঞ্চননগরের মন্ডলবাড়ি ঘিরে উৎসাহ থাকে। এ বছর করোনাকালে সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছে । তবে নিষ্ঠা ভক্তিতে স্বাস্থ্য-বিধি মেনে পুজো হবে। আত্মীয়-পরিজনদের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় বেড়েছে।পরিবহণ ব্যবস্থা সহ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আরও সমস্যা বেড়েছে।করোনার সংক্রমণ বাড়ার খবর থাকায় আরও চিন্তা বেড়েছে আয়োজকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *