ছটপুজোয় নারীর শুদ্ধাচার ও উপবাসের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে আসছে

chath and surya

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ছট পুজো ঘিরে উন্মাদনা। অনেকে সূর্যের আরাধনার কথা বলেন। ষষ্ঠী দেবীর কথাও বলা হয়ে থাকে। কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পুজো, তা নিয়ে অনেক মতামতও রয়েছে। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, ছট শব্দটি জুড়ে রয়েছে সংস্কৃত ষষ্ঠ শব্দটির সঙ্গে। এটি সংখ্যাবাচক শব্দ। তা হল ছয়। ৪ দিন ধরে চলা এই উৎসব ষষ্ঠী তিথিতে সমাপ্ত হয়। ষষ্ঠ থেকে ষট। আবার ষট থেকে লোকমুখে নাম হয়েছে ছট । মানা হয়ে থাকে এই ধর্মীয় উৎসবের কেন্দ্র হল সূর্য। অনেকে সূর্যষষ্ঠী নামেও বলে থাকেন।
এই উৎসব সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আরও জানা যায়, ষষ্ঠী দেবী বা ছটি মাইয়া-কে পুজো নিবেদন করা হয়। পুরাণকথা অনুযায়ী, এই উৎসবের সাযুজ্যে দেবী আরাধনার কোনও বিষয় নয়।
লোকবিশ্বাস মতে, বনবাস থেকে ফিরে সূর্যবংশীয় রাম সিংহাসনে আরোহনের পূর্বে সরযূ নদীতে স্নান করার পর এই তিথিতে অর্ঘ্যদান করেছিলেন সূর্যের উদ্দেশে।এরপর থেকে এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। অন্যদিকে মহাভারত অনুযায়ী জানা যায়, বনবাসকালে পাণ্ডবরা যখন নিদারুণ অন্নকষ্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন পুরোহিত ধৌম্যের উপদেশে ৪ দিন ধরে সূর্যকে আরাধনা করা হয়েছিল। সূর্য সন্তুষ্ট হয়ে একটি দিব্য পাত্র দিয়েছিলেন। সেই পাত্রের খাবার যতক্ষণ না দ্রৌপদীর খাওয়া হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে যায়নি।

মহাভারতের এই কাহিনীতে ছট আর নারীর যোগসূত্র লক্ষ্য করা গিয়েছে। বর্তমান সময়ে ছটপুজোয় নারীর শুদ্ধাচারে থাকা এবং উপবাসের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে আসছে। কথিত রয়েছে, ছট পুজোর উৎসবের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে মহাভারতের অপর এক চরিত্রেরও। সূর্যসঙ্গমে জন্ম নেওয়া কুন্তীর সন্তান কর্ণ। কর্ণ প্রতিদিন সকালে নদীতে স্নান সেরে সূর্যের উপাসনা করতেন। এরপর তাঁর দানপর্ব শুরু হত। কাউকে হতাশ করতেন না। দুর্যোধনের আনুকুল্যে কর্ণ যখন অঙ্গদেশের রাজত্ব লাভ করেন, সেই সময় থেকে বাৎসরিক উৎসব শুরু হয়। তারপর সূর্য আরাধনাও চলতে থাকে। সূত্রের খবর,চলতি বছরে ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২১ নভেম্বরে শেষ হবে ছট পুজোর উৎসব। এই উৎসবে উদীয়মান সূর্যের পাশাপাশি অস্তাচলগামী সূর্যকেও অর্ঘ্য নিবেদন করেন ভক্তকূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *