‘যশ’ বিপর্যয়ে ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিদেরও ক্ষতিপূরণ

Jash Effect-2

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ক্ষতিপূরণ পাবেন ছোট পুকুরের মাছচাষিরাও। ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ আছড়ে পড়ায় বিপত্তি বেড়েছে তাঁদের। স্থানীয় সূত্রের খবর, সরকারের বরাদ্দ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে মৎস্যচাষিদের একটা অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরপর রাজ্য সরকার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বলে খবর। এক্ষেত্রে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কেবলমাত্র বড় মৎস্যচাষি নন, ছোট পুুকুরে মাছচাষের সঙ্গে যুক্ত চাষিরাও ক্ষতিপূরণের অধীনে আসবেন।

সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, প্রতি হেক্টরের হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতির নিরিখে একজন মাছচাষি ৮২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারবেন। এক্ষেত্রে জলাভূমির আয়তন বেশি হলেও ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া যাবে সর্বাধিক ১৬,৪০০ টাকা। পাশাপাশি জলাভূমির আয়তন এক হেক্টরের কম হলেও আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। আবার পুকুরের আয়তন খুব ছোট হলেও সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে মাছচাষিকে, এমনও জানা গিয়েছে।

সরকারিভাবে আরও জানা গিয়েছে, এই বিষয়টা নির্ভর করছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রার উপর। এ বিষয়ে মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব বড় ফার্ম থাকলে এক্ষেত্রে অসুবিধা নেই। সেই সংখ্যা কম। ছোট-মাঝারি মৎস্যচাষির সংখ্যা অনেক বেশি রয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলে তাঁদের সুবিধা হবে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি যাতে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ করা যায়, ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতি না হলেও ভরা কোটালে জলাশয়ে নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় মাছ চাষের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ওই সব জলাশয়কে পূর্বের অবস্থায় ফেরানোর তাগিদে পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রশাসন। উল্লেখ্য, নোনা জলে চাষযোগ্য ‘স্বর্ণ-মৎস্য’ কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হতে চলেছে ‘দুয়ারে ত্রাণ’ কর্মসূচি। প্রশাসনিক সূত্রের আরও খবর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়ার বেশ কিছু অংশে ‘যশ’-এর প্রভাব পড়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে শিবির করে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনপত্র গ্রহণ করবে সরকার। তবে ক্ষতিগ্রস্তরাই আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *