শিউলির অভাবে শীতের সুস্বাদু নলেন গুড়ের আকাল

Khejur Tree-1

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শিউলির অভাবে টান পড়ছে নলেন গুড়ের। সেই রমরমা আর নেই। সময়ের সাথে সাথে বদলে গিয়েছে দিন। শীতের শুরু থেকেই এই কাজে নিয়োজিত থাকতেন বহু মানুষ। অন্যদিকে খেজুর গাছও হারিয়ে গিয়েছে। এখন গাছ কমছে, খেজুরের রসও কমছে। আবার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার মানুষও নেই। এই কাজে যুক্ত থাকা ব্যক্তি বা শিউলিরও আকাল। শীতের মরসুমে কঠোর পরিশ্রমের ওই কাজ আর কেউ করতে আগ্রহী নয়। রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটার কাজও হয় না।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর পূর্বেও শীতের শুরুতেই নলেন গুড়ের গন্ধে চারিদিক মুখর থাকতো। শীতের সকালে সুস্বাদু খেজুর রস খাওয়ার ভিড় দেখা যেত গ্রামীণ এলাকায়। নলেন গুড়ের তৈরি পিঠে পুলি তৈরি করে আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করা থেকে শুরু করে পরিজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার চল ছিল। শীতের শুরুতেই নলেন গুড়ের চাহিদা ছিল গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে। একটা সময় প্রচুর খেজুর গাছ দেখা যেত।

শিউলি পেশার সাথে যুক্ত থাকতেন অনেক ব্যক্তি। মিলতো খেজুরের রসও। সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি গুড় থেকে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরিও হতো। সেই গুড় বা রসের তৈরি খাবারের স্বাদ ও গন্ধ ছিল অতুলনীয়। বর্তমানে মূলত শিউলিদের অভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে খাঁটি নলেন গুড়। স্বাদ বদলে গিয়েছে নলেন গুড়ের। এখন খাঁটি গুড় পাওয়া দুষ্কর। সব মিলিয়ে শিউলির অভাবে এই ব্যবসা বন্ধের মুখে। পেশা পরিবর্তন করছেন শিউলিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *