উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ২৫টি স্কলারশিপের সুবিধা রাজ্যে

Nabanno

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : সওয়া কোটি শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য এবার স্কলারশিপের দরজা উন্মুক্ত করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যবিমার পর সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের অসংগঠিত ক্ষেত্রে নথিভুক্ত সওয়া কোটি শ্রমিক পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়ার জন্য নিয়মে রদ-বদল ঘটাতে চলেছে শ্রমদপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের যাবতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত বৃত্তি বা স্কলারশিপ সুবিধা পাওয়ার দরজাগুলি।

শ্রম দপ্তর সূত্রে আরও খবর, এতদিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট ও স্বল্প পরিমাণ টাকার অঙ্কে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল। এবার নিম্ন থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২৫টি স্কলারশিপের সুবিধা পাবেন আবেদনকারীরা। বর্তমানে বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্র, স্ব-নিযুক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নথিভুক্ত শ্রমিক ও কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ। এর মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকই ৪০ লক্ষের মতো রয়েছে। আবার পরিবহণ শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ। অন্যদিকে ৮৫ লক্ষ কর্মী বাকি ৪৬টি অসংগঠিত ক্ষেত্র ও ১৫টি স্ব-নিযুক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অসংগঠিত শ্রমিকদের বিভিন্ন আইন ও সুবিধাগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সামাজিক মুক্তি কার্ড দেওয়াও শুরু হয়। গত ৩টি আর্থিক বছরে ওই প্রকল্পে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় চালাতে আবেদন করেছেন ৪ লক্ষ ১৭ হাজারের মতো শ্রমিক। এই সংক্রান্ত ব্যয় বাবদ প্রায় ২৭০ কোটি ব্যয় হয় বলেও জানা গিয়েছে। আবেদনকারীদের সংখ্যা এত কম হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পর্যালোচনা করার পর শ্রমদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে সন্তানদের জন্য রাজ্যের অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান না আবেদনকারীরা। সরকারি নির্দেশেই এমন বাধা রয়েছে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে চলতি নিয়ম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর শিক্ষা, এসসি-এসটি, নারীকল্যাণ-সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২৫টি স্কলারশিপে শ্রমিকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। শ্রমদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, শিক্ষা দপ্তরের অন্তর্গত স্বামী বিবেকানন্দের নামাঙ্কিত বৃত্তি প্রকল্পে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *