মহাশিবরাত্রি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পুজো

shiv and sakti

শিবরাত্রি হিন্দু ধর্মের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পুজোর মধ্যে অন্যতম। শৈব সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পুজোর প্রচলন ছিল। পরবর্তী সময়ে তা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। শিবরাত্রির ব্রত পালিত হয়ে থাকে।
অনেকেই মনে করেন, শিবরাত্রি একটি মেয়েলি ব্রত হিসেবে পরিচিত। এটা ঠিক নয়। নারী-পুরুষ সবাই এই ব্রত পালন করতে পারেন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়। এবার মহাশিবরাত্রির সময়সূচি: ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার। তিথি শুরু সকাল ৯.৪২ মিনিট। তিথি শেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৮.৩১ মিনিট। শিবপুরাণে উল্লেখ করা হয়েছে, চতুর্দশী তিথিতে শিবরাত্রি পালিত হলেও প্রস্তুতি শুরু হয় ত্রয়োদশীর দিন থেকেই। সেই নিয়মেই ত্রয়োদশীর দিন এক বেলা হবিষ্য বা নিরামিষ ভোজন করে থাকেন অনেকেই। চতুর্দশীর দিন সকালে শুদ্ধজলে স্নান করার বিধি রয়েছে। এই দিনে নিজের মন ও শরীরকে শুদ্ধ রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সারাদিন উপবাসও অনেকে পালন করেন। ইষ্টমন্ত্র জপ করা,শিব-সংকল্প রক্ষা করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।

শিবশক্তি বা মহাদেবকে যেসব উপকরণে পুজো দেওয়ার চল রয়েছে সেগুলি হল-গঙ্গাজল, দুধ, ঘি, দই, মধু, শ্বেত চন্দন, ধুতরা ফুল, আকন্দ ফুল, বেলপাতা, ধূপ, প্রদীপ, পাঁচটি ফল, কাঁটাফল ও সন্দেশ প্রভৃতি। শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর অনেকেই উপবাস ভঙ্গ করে থাকেন । শিব পুরাণে উল্লেখ ও পণ্ডিত-শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাশিবরাত্রি নামের সঙ্গে রাতের কথা বর্ণনা করা রয়েছে। মহাদেবের কৃপা আশির্বাদ পাওয়ার জন্য রাত্রিবেলা শিবপুজোর আদর্শ সময় বলে চিহ্নিত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোলানাথ বা শিবের থানে সারারাত্রব্যাপী শিবের আরাধনা বা পুজো হয়ে থাকে।ভোলা মহেশ্বরের পুজোর অর্ঘ্য নিবেদন করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিবপুরাণ অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে, শিবলিঙ্গকে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে স্নান করানোর সময় মন্ত্র উচ্চারণ করার বিধি বা নিয়ম রয়েছে। শিবলিঙ্গে জল ঢালার সময় মন্ত্র আলাদা।

আবার দুধ ঢালার সময় আলাদা মন্ত্র। অন্যান্য উপকরণ নিবেদন করার সময় পৃথক মন্ত্র উচ্চারণ করার নিয়ম রয়েছে। মহাদেব তুষ্ট হন এই নিয়মে। দুধ দিয়ে স্নান করানোর সময়ে মন্ত্র- “ঈশানায় নমঃ”।
দই দিয়ে স্নান করানোর ক্ষেত্রে “অঘোরায় নমঃ”।শিবকে ঘি দিয়ে স্নান করানোর সময় জপ করতে হবে-“বামদেবায় নমঃ” ।মধু সহযোগে স্নান করানোর সময় উচ্চারণ করতে হবে “সদ্যোজাতায় নমঃ”।
গঙ্গা জল দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানোর সময়-“মহাদেবায় নমঃ”। চারপ্রহর ধরে শিবশক্তি বা মহাদেবকে স্নান করানোর সময় সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, জ্ঞান, আয়ু, সন্তান, বিদ্যা, অর্থ, আরোগ্য কামনা করতে হবে। বেলপাতার মালা, ফুল এবং ফুলের মালা শিবলিঙ্গের ওপর দেওয়ার নিয়ম। লিঙ্গের ওপর চন্দনের প্রলেপ দেওয়া,ধূপ এবং প্রদীপ জ্বেলে জপ করুন বা আরতি করুন। শিবকে পাঁচ ফল এবং মিষ্টি নিবেদন করে চরণে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে হবে। আরাধনায় মনের ইচ্ছা পূরণ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *