বাতাস বা জল নেই, তবুও চাঁদে পড়ছে মরিচা

hematite in the moon

আমার বাংলা কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ চাঁদে হেমাটাইটের লক্ষণগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় যেখানে আগে বরফ জমা ছিল। অক্সিডাইজড লোহার হেমাটাইট টুকরো চন্দ্রপৃষ্ঠে দেখা গিয়েছে।
অক্সিডাইজড আয়রন একটি লোহার খনিজ যা পৃথিবীতে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। লোহার জারণের জন্য বাতাস এবং জলীয় আর্দ্রতা উভয়ই থাকা প্রয়োজন। যখন চাঁদে বায়ু নেই বলল্লেই চলে তাছাড়া তরল অবস্থাতেও কোন জল নেই, তাহলে এই হেমাটাইট তৈরি হচ্ছে কি করে?

যদিও বিজ্ঞানীরা চাঁদে জলের বরফের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন, তবে কেবলমাত্র তার তলদেশে হেমাটাইট তৈরি করা সম্ভব নয়। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালযের প্রাপ্ত এক গবেষণা অনুসারে, চন্দ্রযান -১-এর কক্ষপথের ছবি তোলায় চাঁদের পৃষ্ঠে হেমাটাইট শনাক্ত করা গিয়েছে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ শুয় লি বলেছেন যে, চন্দ্র পৃষ্ঠে হেমাইটাইট গঠন হওয়া অবাক করা কারণ, পৃথিবীর এই উপগ্রহ নিয়মিতভাবে সূর্যের সৌর বাতাসের ঝাপ্টা সহ্য করে চলেছে। এই সৌর বাতাসের সাথে আসা হাইড্রোজেন পরমাণুগুলি চাঁদের পৃষ্ঠদেশে ইলেক্ট্রন ছাড়তে থাকে, অতএব আয়রনের জারণ প্রক্রিয়া তখনই ঘটতে পারে যখন ইলেক্ট্রনের অভাব দেখা দেয়।

লক্ষ্য করা গিয়েছে, পৃথিবীর খুব কাছাকাছি অংশে চাঁদে হেমাটাইটের উপস্থিতি বেশি। চাঁদে হেমাটাইটের লক্ষণগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেখানে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে আগে বরফ জমা ছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, উল্কার সংঘর্ষের ফলে চন্দ্রপৃষ্ঠের নীচের অংশের বরফটি গলে যায়। ফলে জলের অতি সূক্ষ্ম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সৃষ্টি হয়। এই সমীক্ষায় মনে করা হয় যে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন সৌর বাতাসের সাথে চাঁদে চলে গিয়েছিল। এটাই চন্দ্রপৃষ্ঠে অক্সিজেন কণার জারণ সৃষ্টি করে। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে তখন সৌরবায়ু চাঁদে পৌঁছতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদও হাইড্রোজেনের বোমাবর্ষণ থেকে রক্ষা পায়। এই সময় আয়রনের জারণ হতে পারে বলে ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *