মশাবাহিত রোগ ও মাছে মশা নিধন

mosquito and fish

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: মশার উপদ্রব। ডেঙ্গির আতঙ্ক। বহু ক্ষেত্রে মশার বংশ ধ্বংস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশাবাহিত রোগের দাপাদাপি বাড়ছেই। প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই। একটা সময় “নেচার” পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল একটি গবেষণাপত্র।ওই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, মশাবাহিত রোগের বিকল্প উপায়ের সন্ধান। একদলপতঙ্গবিদের গবেষণায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার বিকল্প পদ্ধতির কথাও জানা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী মহল এক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান,যা এডিস মশার শরীরে প্রবেশ করলে মশার লালাগ্রন্থিতে ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রজনন বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাক্টেরিয়াটির জিন এডিস মশার মধ্যে বংশানুক্রমে প্রবাহিত হয়। প্রকৃতিতে এই জিনযুক্ত মশা ছেড়ে দিয়ে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়। আবার ব্রাজিলের বিজ্ঞানী মহল গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছিলেন,একটি বিশেষ জিনযুক্ত এডিস মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পর ডেঙ্গি অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এক্ষেত্রে মশার শরীরে ডেঙ্গি ভাইরাস প্রতিরোধী কোনও ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করাননি। মশার বংশ বিস্তারে ধাক্কা খাচ্ছে। ডেঙ্গি-রোধে বিদেশি গবেষণার সেই ভাবনা এদেশে প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের ভূমিকা কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। রাজ্যের পরিবেশ ও পতঙ্গবিদদের একাংশ মনে করেন,মশার লার্ভা ও ডিম ধ্বংস করে থাকে গাপ্পি মাছ। এই মাছের একমাত্র খাদ্য মশার লার্ভা ও ডিম।

রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলির প্রচেষ্টায় যদি খাল, বিল,পুকুর,নালা-নর্দমাতে গাপ্পি মাছ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়,তাহলে অনেকটাই সুফল মিলতে পারে। জঙ্গল-আগাছা,খাল, নালা-নর্দমা প্রভৃতি পরিছন্ন রাখা সম্ভব হলেও সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন পরিবেশ ও পতঙ্গবিদরা। (ছবি: সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *