একনজরে পদ্ম সম্মান এবং সম্মানিত বাঙালি

Padma Award

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শিল্প থেকে শিক্ষা, সম্মানিত হলেন বাঙালি। সূত্রের খবর, কারও আঁকা কার্টুন বাঙালির রস-জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে কারও তাঁতের শাড়ির নক্সা বাঙালি মহিলাদের গৌরবের ভূষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বছরে মাত্র ২ টাকা দক্ষিণায় শিক্ষক পড়ুয়াদের জ্ঞানের ঝুলি পূর্ণ করেন।

অনেকে আবার জীবনভর মাতৃভাষার চর্চা করে এসেছেন। এবার পদ্ম সম্মানের তালিকায় এমনই সব বঙ্গ-সন্তানের নাম উঠে এসেছে। এই তালিকায় রয়েছেন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মৌমা দাস ও মালদহের সমাজকর্মী ‘গুরুমা’ কমলি সোরেনও। স্থানীয় সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে এবার ৭ জন বাঙালি পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন। এই তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘বাটুল দি গ্রেট’, ‘হাঁদা-ভোদা’ বা ‘নন্টে ফন্টে’-র স্রষ্টা শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন।

১৯২৫ সালে শিবপুরে জন্মেছিলেন এই বাঙালি। তাঁর তুলি-কলমের টানে বঙ্গদেশে সাহিত্য জগতে আলোড়ন ওঠে। ধর্মনারায়ণ বর্মাও এবার শিল্প ও সাহিত্য ক্ষেত্রে স্বীকৃতি-স্বরূপ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কামতাপুরি ভাষায় লেখালেখি করছেন। পাশাপাশি কামতাপুরি ভাষার ব্যাকরণ ও ইতিহাসও রচনা করেছেন। এই ভাষা নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত থেকেছেন। তাঁর গবেষণামূলক বই ‘স্টেপ টু কামতাপুরি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ও ‘কামতাপুরি ভাষার ইতিবৃত্ত’।

বর্ধমানের আউশগ্রামে প্রায় সাড়ে ৩০০ পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। ৭৮ বছর বয়সী এই শিক্ষকের দক্ষিণা বছরে মাত্র ২ টাকা। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের কল্যাণে এই শিক্ষকের অবদান রয়েছে। সেই ‘মাস্টারমশাই’ সুজিত চট্টোপাধ্যায় এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন। ১৯৬৫ সালে গ্রামের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন এই শিক্ষক। ২০০৪ সালে অবসরের পর পড়ুয়াদের ছেড়ে যায়নি। এখনও ২ টাকায় পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন।

১৯৫১ সালে বাংলাদেশের ধারিন্দায় জন্ম হয় তাঁর। অন্যদিকে শান্তিপুর ব্লকের বেলগড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের চটকাতলা এলাকার বাসিন্দা বীরেনকুমার বসাক। ৪৮ বছর যুক্ত তাঁতশিল্পের সঙ্গে। প্রায় ৫ হাজার তাঁতির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তিনিও পদ্ম সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। জনজাতিদের নিয়ে কাজ করে এই সম্মান পেলেন মালদহের গাজলের ‘গুরুমা’ কমলি সোরেন। তাঁর একটি আশ্রমও রয়েছে।
একনজরে পদ্ম সম্মান প্রাপকরা হলেন- পদ্মবিভূষণ- শিনজো আবে (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, জাপান), এস পি বালসুব্রহ্মণ্যম (মরণোত্তর, সঙ্গীত শিল্পী), বি বি লাল (পুরাতত্ত্ববিদ)। পদ্মভূষণ- তরুণ গগৈ (মরণোত্তর, রাজনীতিক), সুমিত্রা মহাজন (রাজনীতিক), নৃপেন্দ্র মিশ্র (আমলা), রামবিলাস পাসোয়ান (মরণোত্তর, রাজনীতিক), কেশুভাই পটেল (মরণোত্তর, রাজনীতিক)। পদ্মশ্রী- বীরেন্দ্র সিংহ (ক্রীড়াবিদ), বম্বে জয়শ্রী (সঙ্গীতশিল্পী)। বাঙালির পদ্ম পদ্মশ্রী- ধর্মনারায়ণ বর্মা (সাহিত্য ও শিক্ষা), বীরেনকুমার বসাক (তাঁতশিল্পী), সুজিত চট্টোপাধ্যায় (শিক্ষক), মৌমা দাস (ক্রীড়াবিদ), নারায়ণ দেবনাথ (শিল্পী), জগদীশচন্দ্র হালদার (সাহিত্য ও শিক্ষা), গুরুমা কমলি সোরেন (সমাজকর্মী), সনজিদা খাতুন (শিল্পকলা) বাংলাদেশ, কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এবং কাজী সাজ্জাদ আলি জাহির (প্রাক্তন সেনা অফিসার) বাংলাদেশ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *