লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত ছোট্ট আর্যহীর পাশে দাঁড়ানোর আর্জি

Aryohi

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ সদা ব্যস্ত তাঁর ডাক্তার ডাক্তার খেলা নিয়ে, যখন পাওয়া গেল, তখন তিনি রোগী দেখতে বেজায় ব্যস্ত। আর একটু পরেই শুরু হবে কেমোথেরাপি। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল কেমো। এটাই ৬ বছরের আর্যহী আচার্যের প্রতিদিনের খেলা। সেই আড়াই বছর বয়স থেকে কেমো নেওয়া আর্যহী, কেমোথেরাপিকে একটা খেলা বলেই মনে করত। হাসপাতাল থেকে বাঁশদ্রোণীর বাড়ি ফিরে খুব ক্লান্ত নাহলে এই প্রিয় খেলায় মেতে ওঠে সে।

আর্যহী আসলে ‘রিল্যান্সড বি সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকোমিয়ায় (রিল্যান্সড বিসিপি অল ) আক্রান্ত। যা এক ধরণের ব্লাড ক্যান্সার। নিউ টাউনের টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়মিত কেমো দেওয়া হয় তাঁকে। চেহারাও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে একরত্তি মেয়েটার। মাথার চুল সব পড়ে গিয়েছে। এই কেমো দেওয়া শেষ হলে, একটা এন্টিবডি টেস্ট হবে। তারপর চিকিৎসকরা প্রস্তুতি শুরু করবেন অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের। তা হলেই এই কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাবে সে।

কিন্তু চিকিৎসার এই বিপুল খরচ সামলানো তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে। কারণ, টাটা মেডিক্যাল চিকিৎসার জন্য যা এস্টিমেট দিয়েছে তা হল শুধু বিএমটি-র ক্ষেত্রে খরচই অন্তত ৩৫ লক্ষ টাকা। তাছাড়া কেমোর খরচ পড়বে আরও ১০ লক্ষ টাকা। চিকিৎসার জন্য মোট খরচ হবে ৪৫ লক্ষ টাকা, যা এই মুহূর্তে খুবই দরকার। আর্যহীর বাবা সৌমিক আচার্য একটা ছোট দোকানে লন্ড্রির ব্যবসা চালায়। লকডাউনে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এখন দোকান খুললেও ঘন্টা দুয়েকের বেশি সেখানে সময় দিতে পারেন না। মেয়ের জন্য সব সময়ই নিজেকে ফাঁকা রাখতে হয়। কারণ, মেয়ের জ্বর- সর্দি হলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই দোকান থেকে বছরে সর্বসাকুল্যে ২৪ হাজার টাকার বেশি আয় হয় না। আর্যহীর মা অর্পিতা গৃহবধূ।

২০১৭-র জুলাইয়ে মেয়ের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পর থেকে ২০২০-র জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়ের যা চিকিৎসা চলছে তা তাঁদের সেভিংস থেকে ও ধার-দেনা করে চলে। এ বছরের জানুয়ারিতে টাটা মেমোরিয়াল ওকে ফিট সার্টিফিকেট দেয়। জানায় ও সেরে গিয়েছে। ফলে তাঁরা স্বস্তি পায়, কিন্তু মে মাসে আর্যহী আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, সে আবার রিল্যান্সড বিসিপি অল-এ আক্রান্ত। এর চিকিসা থাকেলেও তার জন্য এতো বিপুল পরিমান টাকা (৪৫লক্ষ) তাঁদের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। এ জন্যই উদ্যোগ নিয়ে দুটো গ্ৰুপ বানায় সৌমিকের বন্ধুরা। সেখানে কিছু কিছু করে টাকা আসছে।

সূত্রের খবর, ওই গ্রূপের সদস্য প্রিয়ঙ্কর মিত্র থাকেন সিঙ্গাপুরে। তিনি জানিয়েছেন, ওই গ্ৰুপের মাধ্যমে তাঁরা ফান্ড রেইজিং ও চিকিৎসার দিকটা নজর রাখছে। তিনি নিজে সিঙ্গাপুরবাসীদের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের জন্য মিলাপেও আবেদন জানান তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। এত সব করেও এখনও পর্যন্ত মোট ১৭ লক্ষ টাকা উঠেছে। পিএম রিলিফ ফান্ডের জন্য আবেদন করলেও এখনও উত্তর মেলেনি।সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিশু সুরক্ষা আয়োগেও।

সৌমিকের কথায়, ‘আমার মেয়েটাকে এখন একমাত্র আপনাদের সাহায্যই বাঁচাতে পারে। আমি নিরুপায় ও অসহায়। একটা টাকাও এখন আমার কাছে ভীষণ দামি’। একরত্তি মেয়েটা অবশ্য এতো কিছু বোঝে না। ও জানে মা দুর্গার মতো লড়াই করতে। সামনেই মহালয়। দেবীপক্ষেই হয়তো লিউকোমিয়া বধ করে ফুলের মতো ফুটবে আর্যহী। আর্যহীর এই অসম লড়াইয়ে সামিল হন আপনারাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *