বাড়িতে করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: করোনা মুক্ত হয়েও থেকে যাচ্ছে কিছু উপসর্গ। বাড়িতে থেকে কীভাবে তা মোকাবিলা করবেন তা নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের দেওয়া গাইডলাইন মেনে কিছু নির্দেশ তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,করোনা সংক্রমণ ছোঁয়াচে রোগ তা কারও আর অজানা নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি থেকে রোগটি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নাক বা মুখ দিয়ে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে থাকে।
গবেষণা অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাস বায়ুবাহিতও হতে পারে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে,বায়ু চলাচল না হলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা বাড়ে । এক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আরও মতামত, মাস্ক সঠিকভাবে পরতে হবে। থুতনিতে নেমে আসলে চলবে না। মাস্ক বাড়ির যত্রতত্র ফেলা যাবে না। নিয়ম মেনে পরতে হবে এবং তা ফেলতে হবে। বদল আনতে হবে জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও।
খাদ্যাভাসেওপরিবর্তন আনাটা জরুরি। করোনা মুক্ত হওয়ার পর কী কী করণীয় তা ভালো করে জেনে নিতে হবে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এই নিয়মগুলো একনজর দেখে তা পালন করা বিশেষ জরুরি।
চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে করোনা মুক্ত হলেও কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে,শরীরে এনার্জি কমে যেতে পারে। ক্লান্তিভাব থাকবে। এছাড়া শ্বাস -প্রশ্বাসের কষ্ট থাকবে। আবার ·বুকে কফ জমে যেতেওপারে। কফ সহ কাশির লক্ষণও দেখা দিতে পারে। ·খিদে কমে যেতে পারে। আবার খাবার স্বাদহীন লাগতে পারে।
উপসর্গ হতে পারে মাথা ব্যথাও। কাজে·মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। কাজের প্রতি অনীহা বাড়বে। মনে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হবে।
ঘুম নাও হতে পারে। তবে কিছু উপসর্গ আপনা থেকেই চলে যাবে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে।
এক্ষেত্রে লক্ষণীয়-আক্রান্ত হওয়ার সময় যাঁদের শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হয়েছিল বা যাঁরা আইসিইউতে ছিলেন তাঁদের প্রয়োজনে বাড়িতেও সিপিএপি বা কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার দিতে হবে যাতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে না যায়।
কাশি হলে সাবধান হতে হবে। শুকনো কাশি হলে গলার ওপর প্রভাব পড়ে। কাশি হলে করণীয় – হালকা গরম জল পান করতে হবে। এই সময় অল্প চুমুক দিয়ে জলপান করতে হবে। স্টিম নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া·গরম জলে লেবু আর মধু মিশিয়ে পান করলে উপকার মিলবে। নুন জল বা বিটাডিন দিয়ে গারগেল করার প্রয়োজন রয়েছে।
কফসমেত কাশি থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে। কাশির সময় মুখ থেকে কফ বা থুতু ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কফ বা থুতু ফেলার সময় সচেতন থাকুন। কাশি হলে যা করতে হবে -ভেষজ চা, সুপ খেলে রিলিফ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে স্টিম নিতে হবে। এই সময় চিত হয়ে না শুয়ে ডান বা বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে হবে।
এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করতে হবে। ক্লান্তি কাটাতে মানসিক ও শারীরিকভাবে ব্যস্ত থাকা যায় এমন কাজ করতে হবে। কাজের মধ্যে বিরতি নেওয়াটা খুব জরুরি। সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ ছুটি নিতে হবে। ধূমপানে অভ্যস্ত হলে তা ছেড়ে দিতে হবে। মাথায় রাখতে হবে ধূমপান ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। এই নিয়মগুলি মেনে চলা একান্ত জরুরি।
মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

