পুজোর গানে বদল : “মহিষাসুরমর্দিনী” এক অনুভূতি

song and puja

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: আজও নবীন “মহিষাসুরমর্দিনী”। আধুনিককালেও এর গুরুত্ব কমেনি। পুজোর গানে বাজার জমজমাট হলেও ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-তে রয়েছে এক অন্য অনুভূতি। সেই চিরাচরিত পাঠ এখনও মানুষের মনের মণিকোঠায়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র নামটির সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছে “মহিষাসুরমর্দিনী”। “আশ্বিনের শারদ প্রাতে …”। শুনলেই দুর্গাপুজোর স্মৃতি-অনুভূতি জেগে ওঠে। পাশাপাশি গানের ধারা ও সুর ভিন্ন আবহ সৃষ্টি করে। গানের সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-র কণ্ঠ। মহালয়া উপলক্ষ্যে বা দুর্গাপুজোর সময় এমন চিরাচরিত পাঠ ও গান বাংলায় আর হয়নি।

সত্তর দশকের শুরু। পুজোর প্যান্ডেলে রেকর্ড প্লেয়ার-এর চল। মাইকে গান ভেসে আসতো। বেশ কিছু গানে পুজোর গন্ধ মাখানো থাকতো। অন্তরা চৌধুরীর কণ্ঠে শোনা যেত, “ওওও আয় রে ছুটে আয়, পুজোর গন্ধ এসেছে…।” আবার আটের দশকে গানের অন্য অনুভূতি। পুজোর গান ভেসে আসতো হেমন্ত,মান্না,সন্ধ্যা,আরতি ও হৈমন্তীদের কণ্ঠে। বাংলা সঙ্গীতের জগতে এ এক অন্য যুগ। পুজোর গানে এক নতুন অধ্যায়। একাধিক শিল্পীর কণ্ঠে কালজয়ী গান শোনা গিয়েছে। এই সময় কালে বহু সঙ্গীত প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল।

ওই দশকে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভূপেন হাজারিকা, পিন্টু ভট্টাচার্য সহ সলিল চৌধুরীর চির নতুন গানগুলো শোনা গিয়েছে। পুজো মণ্ডপগুলিতে শোনা যেত সেই সব চিরন্তন গান। শ্রাবন্তী মজুমদারের কণ্ঠে “আয় খুকু আয়…”।গানটি পুজোর বাজার কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সন্ধ্যা ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে একাধিক গান পুজোয় সুপারহিট হয়। মান্না দে-র কণ্ঠেও বহু বাংলা গান পুজো প্যান্ডেল মাতিয়েছে।

আটের দশকের শেষ থেকে বদল হল বাংলা সঙ্গীত-জগৎ। পুজোর মণ্ডপ থেকে ভেসে আসতে শুরু করল ভিন্ন ঘরানার বাংলা গান। পল্লীগীতি ও ভিন্নধর্মী গানের একটা নতুন বাজার তৈরি হল। নতুন ভাবনার গান পুজোর বাজার দখল করল। এরপরই বাংলা গানের ভুবনে উঠল ঝোড়ো হাওয়া। পুজোর গানে নতুন আমেজ। শ্রোতাদেরও চিন্তা-চেতনার বদল এল। মণ্ডপে মণ্ডপে শোনা যেত,”চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছ?…” ।

নব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা গানের আরও পরিবর্তন দেখা গেল। পুজোর মাইকে শোনা যেতে লাগল জীবনমুখী নানা গান। বহু শিল্পীর উত্থান হল। গানের দখল নিল বাজনা। বাজনা-গান পুজো মণ্ডপগুলিতে শোনা যাচ্ছে । বদলে যাওয়া গানের জগৎ কেবল কালের নিয়মেই বদলাচ্ছে।
(ছবি: সংগৃহীত)
(আপনার নিজস্ব মতামত প্রত্যাশা করি )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *