বরফের দেশ রোহটাং পাস

Rohtang Pass-1

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : সিমলা থেকে মানালী আসা মানেই রোহটাং পাস ট্রিপ। বরফের দেশ, যেখানে স্বর্গ মনে হবে হাতের মুঠোয়। মানালী থেকে ৫০ কিমি দূরে কেইলং লেহ জাতীয় সড়ক পথে কোথি, গুলাবা ভ্যালি, মারহি হয়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে রোহটাং পাস। রোহটাং পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩৫০০ ফুট (৪০০০ মিটার) উপরে।

মে মাসের মাঝামাঝি থেকে রাস্তা খোলে ও নভেম্বর মাস পর্যন্ত খোলা থাকে। সমগ্র শীতকালে রোহটাং পাস বরফপাতের জন্য বন্ধ থাকে। ফেব্রুয়ারিতে মানালী শহরেই তুষারপাত হয়। তখন কোথি পর্যন্ত যাওয়া যায়। মার্চে খোলে গুলাবা ভ্যালি। এপ্রিল মাসে মারহি। মে মাসে ওপেন হয় রোহটাং পাসের রাস্তা। কোথি হল মানালী থেকে রোহটাং পাস যাওয়ার এন্ট্রি পয়েন্ট। এরপর গুলাবা ভ্যালিতে গাড়ির পারমিট করানোর অনুমতি মেলে।

মারহি বা রোহটাং পাস এপ্রিল-মে মাসে পিক সিজনে ট্যুরিস্টের লাইন পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ১২০০-১৫০০ গাড়ি পারমিশন পায়। সম্প্রতি রোহটাং পাস বন্ধ থাকে। এই সময় বরফে স্কি, স্লো বাইকিং ও প্যারাগ্লাইডিং সমস্তরকম এডভেঞ্চার স্পোর্টস এনজয় করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, কুলু ও লাহুল দু-উপত্যকাকে আলাদা করেছে রোহটাং পাস। লে লাদাখ যাওয়ার এন্ট্রি পয়েন্টও এই রোহটাং পাস। হিমাচলপ্রদেশের মানালী থেকে রোহটাং পাস দিয়ে প্রবেশ কার্গিল শ্রীনগর (কাশ্মীর) দিয়ে বেরনোর এক সুন্দর ভ্রমণ সার্কিট হল এই লেহ লাদাখ বা উল্টো পথ।

মানালী থেকে রোহটাং পাস ঘুরে ফেরার সময় পলচান থেকে ডানদিকের রাস্তা ধরে গেলে পৌঁছে যাওয়া যায় সোলাং ভ্যালি। এটিও খুব সুন্দর। চারিদিকে সবুজে ঘেরা উপত্যকা। প্যারাগ্লাইডিংয়ের স্বর্গরাজ্য। এছাড়া বর্তমানে গন্ডলা বা রোপওয়ে চালু হয়েছে। কিছু তথ্য এক্ষেত্রে জানানো হল- (১) প্রতি মঙ্গলবার রোহটাং পাস বন্ধ থাকে। ও (২) রোহটাং পাস যাওয়ার গাড়ির অনুমতি পাওয়া গেলে গুলাবা ভ্যালি থেকে। এই ক্ষেত্রে ট্যুরিস্টদের কোনও পরিচয়পত্র লাগে না। গাড়ির ড্রাইভাররাই নিজের পরিচয়পত্র দিয়ে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে নেয় (৫০০ টাকা)। সেই অনুমতিপত্র দিয়েই রোহটাং পাস যাওয়ার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। (৩) এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভাল সিমলা-মানালী রুটের নর্মাল গাড়ি রোহটাং পাস যেতে পারে না। রোহটাং পাস যাওয়ার আলাদা ইউনিয়ন গাড়ি থাকে। হোটেল বা মানালী ম্যাল আপনার পুরো ট্রিপের ড্রাইভারই যোগাযোগ করিয়ে দেবে। গাড়ি ভাড়ার নির্দিষ্ট কোনও রেট নেই। পুরোটায় দরদামের ওপর নির্ভরশীল।

(৪) বরফে খেলার জন্য ও ঠান্ডায় বরফে ভিজে না যাওয়ার জন্য আলাদা সারা শরীরের পোষাক ভাড়া পাওয়া যায়। ২৫০ টাকার বিনিময়ে। (৫) রোহটাং পাস যেতে সকালে যত তাড়াতাড়ি বেরবেন তত আপনার লাভ। পিক সিজনে ১২০০-১৫০০ গাড়ির লাইন, জ্যাম আপনাকে ফেস করতে হবে। তাই ভোরবেলা মানালী বেরিয়ে পড়ুন। রাস্তায় কোথিতে ব্রেকফাস্ট করে নিন। সঙ্গে শুকনো খাবার রাখবেন। বর্তমানে মারহিতে ম্যাগি জাতীয় খাবার পাওয়া যায় (দু-একটা স্টল)। (৬) রোহটাং পাস সারাদিনের ট্রিপ। মানালী থেকে বেরিয়ে সেইদিন ঘুরে বিকেলবেলা মানালী ফিরে এসে সন্ধ্যেবেলা মানালী ম্যাল উপভোগ করুন। শপিংও করতে পারেন। রাত্রিবাস মানালীতেই। পরদিন সকালে মানালী লোকাল সাইটসিন দেখতে বের হন।

সৌজন্যে- ‘ভ্রমণ পিপাসু’ / লেখক- শুভজিৎ তোকদার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *