ভ্যাকসিনের সুফল নিয়ে কিছু পরামর্শ

Covid Vaccine

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক লড়াইয়ের পর অবশেষে সারা দেশে করোনা টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রথম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার কাজ চলছে। এখন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা পাচ্ছেন। আর কয়েকদিন পর থেকে সাধারণ মানুষও টিকা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে টিকা দেওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ভুল ধারণা রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রশ্নও সামনে আসছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। প্রথমে জেনে নেওয়া যাক-
টিকা দেওয়ার সুবিধাগুলি।
অতিমারীর সময় ভ্যাকসিন নেওয়ার দু’টি সুফল রয়েছে। যেমন- ব্যক্তিগত সুরক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা বা হার্ড ইমিউনিটি। ব্যক্তিগত সুরক্ষা হল- কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনটির ক্ষেত্রে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দু’টি টিকা নেওয়ার পর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিরোধের ক্ষমতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ গড়ে উঠবে।

সামাজিক সুরক্ষা বা হার্ড ইমিউনিটি – দেশের প্রায় ৬৭ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে তবে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা যাবে। এক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ মানুষ যদি ভ্যাকসিন দেয় তবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পাওয়া যাবে। ফলে সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা সম্ভব হবে।
কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিন – এখনও পর্যন্ত দেশে মূলত দু’টি ভ্যাকসিনের ছাড়পত্র মিলেছে। যথা- প্রথম অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ত্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, দ্বিতীয়ত আইসিএমআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ)-এর গবেষণার মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ দেশীয় টিকা কোভ্যাকসিন।
কোভিশিল্ড – কোভিশিল্ড মূলত ভাইরাল ভেক্টর ক্যারিয়ার প্রোটিন ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনে শিম্পাঞ্জির লাইভ অ্যাডিনো ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ভাইরাস মানবদেহে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান বাদ দিয়ে শুধু তার খোলটি ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের ‘স্পাইক প্রোটিন’-এর অংশ এই ভাইরাসের খোলকের মধ্যে রাখা হচ্ছে।
কোভ্যাকসিন – এই ভ্যাকসিনে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষ্ক্রিয় করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসও মানবদেহে বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জীবাণুকে রোধ করবে। ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম আবার যাঁদের বিভিন্ন ওষুধ খেতে হয় তাঁদের কোভ্যাকসিন নেওয়া বারণ। অন্যদিকে টিকার কার্যকারিতা – গবেষণার মাধ্যমে জানা গিয়েছে, এই কোভিশিল্ডের মেয়াদ প্রায় ১ বছর পর্যন্ত থাকবে। যাঁরা এখন এই ভ্যাকসিন নিচ্ছেন তাঁদের একবছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা হবে বুস্টার ডোজ কবে নেওয়ার দরকার পড়বে। আবার এমনও হতে পারে বুস্টার ডোজের আর প্রয়োজনই পড়ল না।
কতগুলো ডোজ নিতে হবে সে বিষয়ে জানানো হয়েছে, দু’টি কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নিতে হবে। প্রথম ডোজটি নেওয়ার পর আবার ৪ সপ্তাহ বাদে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এই ভ্যাকসিন ইঞ্জেকশনের সাহায্যে হাতের উপরের দিকের ডেল্টয়েড মাংসপেশিতে দেওয়া হয়।
এই টিকা কখন দেওয়া যাবে না, সে সম্পর্কে জানানো হয়েছে – অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, জ্বর থাকলে, ইমিউনিটি কম থাকলে, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় থাকাকালীন, অন্য কোনও করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে ও মারাত্মকভাবে রোগী অসুস্থ থাকলে এই টিকা দেওয়া যাবে না।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকরা জানিয়েছেন, টিকা নেওয়ার পরেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাবেন না। কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করাটা জরুরি। এই সময় কোনওরকম শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, ভ্যাকসিন থেকে করোনা হয় না। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও ভ্যাকসিন নিতে হবে। তবে ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে নিতেও পারেন বা নাও পারেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সামান্য গা ব্যাথা ও হালকা জ্বর হতে পারে। শরীরে অস্বস্তি হওয়া, গা বমি করা, মাথা ঝিমঝিম সহ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দুশ্চিন্তা ও ভয় থেকে শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এইসব ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *