মানব জীবনে স্বামীজির বাণী

vivekananda

আপনি যখন কঠিন অবস্থার মধ্যে। অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছেন। তখন আপনাকে পথ দেখাতে পারে স্বামীজির বাণী। স্বামী বিবেকানন্দের নানা উপদেশের কথা অনেকেই জানেন। সেই দেখানো পথ ধরে হাঁটলে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি পেতে পারবেন। এ বিশ্বাস আমাদের থাকা উচিত। ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি এই মহান মানবের আবির্ভাব ঘটে। গোটা বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়ে চলেছেন তিনি আজও। মানব জীবন বদলে দেওয়া স্বামীজির বাণী স্মরণ না করলেই নয়। এ এক শাশ্বত বাণী। মানব জাতির কল্যাণ সাধনে তাঁর নিরন্তর প্রয়াস ছিল। স্বামীজির বাণী আত্মশক্তি ও মুক্তির জাগরণ। স্বামীজি বলেছেন,”যদি সত্যিই মন থেকে কিছু করতে চাও তাহলে পথ পাবে,আর যদি না চাও তাহলে পথ পাবে,আর যদি না চাও তাহলে অজুহাত পাবে। তিনি আরও বলেছেন, “তুমি যদি সঠিক হও তাহলে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করো না চুপচাপ অপেক্ষা করো,সময় সব কিছুর জবাব দিয়ে যাবে।”

উপদেশ হিসেবে তিনি বলেছেন,”যে মানুষ বলে তার আর শেখার কিছু নেই,সে আসলে মরতে বসেছে। যতদিন বেঁচে আছো শিখতে থাকো।” তাঁর কথায়,”উপরে উঠতে গেলে আগে নিজেকে হালকা করো নিজের ভিতরের সব অহঙ্কার টেনে বের করে দাও।” স্বামী বিবেকানন্দের উপদেশে আমরা পাই,”সুখ বা আনন্দকে জীবনের পরম লক্ষ্য ভেবো না,জীবনের পরম লক্ষ্য হল জ্ঞান। যার দ্বারাই তুমি জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাবে।” স্বামীজির একটি বাণী রয়েছে,”আমরা প্রত্যেকেই নিজের যোগ্য ব্যক্তি খোঁজার চেষ্টা করি,কিন্তু কেউ কারো যোগ্য হবার চেষ্টা করি না।” স্বামীজির ভাষায়,”একটি সময়ে একটিই কাজ করো এবং সেটা করার সময় নিজের সব কিছুই তার মধ্যে ব্যয় করে দাও।”

স্বামীজি বলেছেন,”আমি বিশ্বাস করি যে,কেউ কিছু পাওয়ার উপযুক্ত হলে জগতের কোনও শক্তিই তাকে বঞ্চিত করতে পারে না।” “মানুষ জ্ঞানের পরিচয় দেয় তার কথায়,যোগ্যতার পরিচয় দেয় তার কর্মে,আর বংশের পরিচয় দেয় তার ব্যবহারে।”-বলেছেন স্বামী বিবেকানন্দ। স্বামীজির আরও একটি মহান বাণী আমাদের চলার পথের পাথেয়। তিনি বলেছেন,”সফলতা এবং ব্যর্থতা দুজনেই আমাদের জীবনের অংশ কিন্তু কেউই চিরস্থায়ী নয়। ” ১৯০২ সালের ৪ জুলাই এই মহামানবের প্রয়াণ ঘটেছিল। দীপ্ত কণ্ঠে তাঁর বার্তা ছিল-“ওঠো,জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” চলার পথ যখন থমকে দাঁড়ায় তখন স্বামীজিই আদর্শ হয়ে উঠুক। স্মরণ করুন স্বামীজিকে। প্রণাম করুন ভক্তিভরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *