বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ

Vishwa Bharati Santiniketan

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : উপাসনা মন্দিরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ হল। ২২ জুলাই থেকে বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরে প্রার্থনার সময় মোবাইল ও ক্যামেরা ব্যবহার করায় নিষেধাজ্ঞা জারি হল। সূত্রের খবর, বিশ্বভারতীর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কেবলমাত্র সঙ্গীত চলাকালীন মাইকের ব্যবহার হবে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের আরও খবর, ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিবের স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তি বিশ্বভারতীর সব ভবনের অধ্যক্ষ ও আধিকারিকদের মেল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনের উপাসনা মন্দিরের প্রার্থনা দেখার জন্য ভিড় জমে যায়। তাঁরা সেই সব স্মৃতি মোবাইলে বন্দি করেও নিয়ে যান। উল্লেখ করা যায়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাসনা গৃহে প্রায় শতবর্ষ ধরে “বুধবারের মন্দির” হয়ে আসছে। শান্তিনিকেতনের নিরিখে এটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি অনুষ্ঠান। জানা যায়, “বুধবারের মন্দির” ছাড়াও উপাসনা গৃহে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বৈশাখ, ২৫ বৈশাখ, ২২ শ্রাবণ ও খ্রিস্টোৎসব প্রভৃতি অন্যতম।

আবার প্রত্যেক উপাসনা মন্দিরেও প্রার্থনা করা হয়। বিশ্বভারতীতে পুজো ও গ্রীষ্মের ছুটি ছাড়া কখনও এই বুধবারের মন্দিরের প্রার্থনা বন্ধ থাকেনি। করোনা আবহে সংক্রমণের জেরে প্রায় দীর্ঘ ৪ মাস মন্দিরের প্রার্থনা বন্ধ ছিল। গত ১০ জুন থেকে শান্তিনিকেতনে শুরু হয় “বুধবারের মন্দির”। করোনা পরিস্থিতিতে যোদ্ধাদের বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর ব্যবস্থাও করা হয়। প্রতি বুধবার উপাসনা মন্দিরে প্রার্থনার সময় আচার্যের পদে বসিয়ে কখনও চিকিৎসক, কখনও নিরাপত্তারক্ষী, কখনও পুলিশ এবং কখনও আবার সাফাইকর্মীকে সম্মান দেওয়া হয়।

উপাসনা গৃহে “বুধবারের মন্দির”-সহ অন্যান্য উৎসবে প্রার্থনার সময় ছবি তোলা যেত অনায়াসে। পর্যটকরা শান্তিনিকেতনে এসে মন্দিরের প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করে সেই স্মৃতি মোবাইলে বন্দি করে নিয়ে যেতেন। আবার বিশ্বকবির শান্তিনিকেতন ও তার প্রতিটি অংশকে পর্যটকরা ক্যামেরাবন্দি করতেন। পর্যটক বা আশ্রমিক কারও সে উপায় আর থাকছে না। বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “বুধবারের মন্দির” থেকেই উপাসনা গৃহে মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *