নরেন্দ্রনাথ থেকে বিবেকানন্দ

vivekananda

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ঊনবিংশ শতাব্দী বাংলার নবজাগরণের যুগ, ঠিক এই যুগসন্ধিক্ষণে আবির্ভাব হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দের। ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি সিমলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে নরেন্দ্রনাথ দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বিশ্বনাথ দত্ত এক প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী, মাতা ভুবনেশ্বরীদেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণা। জানা যায়’ কাশীর বিশ্বনাথের কাছে প্রার্থনা করে তাঁদের এই সন্তান লাভ হয়। তাই নরেন্দ্রনাথকে ডাকা হতো বীরেশ্বর বলে। বীরেশ্বর থেকে বিলে নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ছোট্ট বিলের দুরন্তপনার কাহিনী প্রায় সকলেরই জানা। তাঁর বিশেষ খেলাগুলোর মধ্যে ছিল ধ্যান-ধ্যান খেলা। প্রায়শই এই খেলায় মেতে থাকতেন তিনি। এইসময় বিশেষভাবে ভাবচ্ছল হয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে।

মায়ের কাছেই বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে শুরু হয় তাঁর শিক্ষা জীবন। পরে তিনি ১৮৭৯ সালে মেট্রোপলিটন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স উত্তীর্ণ হন এবং বর্তমান স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে ১৮৮৪ সালে বি. এ. উত্তীর্ণ হন। খেলাধুলা ছাড়াও রান্নাবান্নার কাজেও তিনি ছিলেন যথেষ্ট পারদর্শী। ছাত্র জীবনেই তিনি আধ্যাত্মিকতায় মনোযোগী হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে কলেজ অধ্যক্ষ তথা কবি ও দার্শনিক উইলিয়াম হেস্টির প্রভাব ছিল যথেষ্ট। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় ১৮৮০ সালে সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে। সেই সময় নরেন্দ্রনাথের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি নরেন্দ্রনাথকে দক্ষিণেশ্বরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

যে সত্যের সন্ধানে নরেন্দ্রনাথ পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তার পথ দেখালেন তিনি। নরেন্দ্রনাথকে অনেক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সত্যের সন্ধানে মানব সেবায় দীক্ষিত করলেন। ১৮৮৬ সালে ১৬ আগস্ট ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সমাধি হলে তিনি গুরুভাইদের নিয়ে বরানগরে একটি পুরনো বাড়িতে প্রথম শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপরে ঠাকুরের আদর্শ প্রচারের কাজে মনোনিবেশ করতে থাকেন। তিনি বেরিয়ে পড়লেন, পায়ে হেঁটে পরিক্রমা করলেন সারা ভারতবর্ষ। পরিচয় হল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে। এই সময় তাঁর দেখা মিললো খেতরির মহারাজার সঙ্গে। সেই সময় ঘটনা চক্রে নরেন্দ্রনাথের নাম হলো বিবেকানন্দ। পরবর্তীকালে খেতরির মহারাজার দেওয়া নামেই তিনি বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *