স্ফটিকের পর্যবেক্ষণ করে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব

Volcanic eruptions

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস খুব কঠিন, তবে ছোট স্ফটিকের অধ্যয়নের সাহায্যে তা করা সম্ভব হতে পারে। হাওয়াইয়ের একটি আগ্নেয়গিরির গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, আগের অগ্ন্যুৎপাত থেকে উদ্ভূত ছোট স্ফটিকগুলির অধ্যয়ন করলে বলা যেতে পারে যে, পরে কবে ও কখন আবার বিস্ফোরণ হতে পারে। আজও বিজ্ঞানীদের কাছে আগ্নেয়গিরিতে কখন এবং কীভাবে অগ্নুৎপাত ঘটে তা জানার পক্ষে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

লাভা টিউব অনেক প্রক্রিয়ার পরে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরে, পৃষ্ঠের নীচে এর আগমনকে চিহ্নিত করে এমন চিহ্নগুলি সাধারণত বিস্ফোরণে নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বিস্ফোরিত অঞ্চলে ছোট স্ফটিক থেকে একটি আশার আলো দেখতে পেয়েছেন, যা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। গবেষকরা প্রায় দেড় দশক আগে হাওয়াইতে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত থেকে তৈরি খনিজগুলির ক্ষুদ্র স্ফটিক পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের অগ্নুৎপাতের পূর্বাভাসের সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ম্যাগমা প্রবাহের কম্পিউটার মডেলগুলি পরীক্ষা করার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন যাতে তারা পুরনো বিষ্ফোরণের ওপর আলোকপাত করে আন্দাজ করা সম্ভব ভবিষ্যতে আবার কখন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হতে পারে।

স্ট্যানফোর্টস স্কুল অফ আর্থ, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেসের জিওফিজিক্সের সহকারী অধ্যাপক জেনি সকল বলেছেন, “আমরা আসলে এই স্ফটিকের ডেটা থেকে প্রবাহের পরিমাণগত বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্ফোরণের আগেই বের করতে পারি এবং খোঁড়াখুঁড়ি না করেই সেগুলি সম্পর্কে জানতে পারি যা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী।” এক মিলিমিটার আকারের এই স্ফটিকগুলি ১৯৫৯ সালে হাওয়াইয়ের কিলোএয়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে প্রবাহিত লাভা থেকে আবিষ্কার করা হয়েছিল। এই স্ফটিকের বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, তাদের একটি স্বাভাবিক নিয়মিত প্যাটার্ন রয়েছে যা পৃষ্ঠের নীচে ম্যাগমা তরঙ্গ থেকে তৈরি হয়েছিল। এটির সাহায্যে এই স্ফটিকের ম্যাগমাতে প্রবাহের দিকটি স্থির করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *