আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও মহিলাদের কাজের সুযোগ

Womens Day

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আজ একটি বিশেষ দিন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শ্রমজীবী নারীর অধিকার অর্জনের দিন হিসেবেও পরিচিত। ভারতে নারীর অধিকার নিয়ে বহু আলোচনা শোনা যায়। তবে ক্রমশ তা সঙ্কুচিত হচ্ছে, এমন তথ্যও সামনে এসেছে। উল্লেখ করা যায়, দেশের কর্মী-বাহিনীতে মহিলাদের অংশগ্রহণও ক্রমশ কমে আসছে তারও ইঙ্গিত মিলছে।

২০২০ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মহিলাদের কর্মী-বাহিনীতে অংশগ্রহণ মাত্র ২০.৩ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষের অংশগ্রহণ এক্ষেত্রে ৭৬ শতাংশ। তথ্য অনুযায়ী আরও জানা গিয়েছে, ২০১১-১২ সালে আইএলও-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এই পরিসংখ্যান ছিল ২৭.২ শতাংশ। সব মিলিয়ে এই ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা নিয়ে ভাবার বিষয়।

ভারতে মহিলাদের অবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্যই সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না বলেও অভিযোগ। দেশের জিডিপি ঊর্ধ্বগামী সেই সময় কর্মী-নারীর সংখ্যায় নিম্নগতি প্রমাণ করে এদেশে নারীর প্রতি বৈষম্য কত গভীরে রয়েছে। আমরা ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে থাকি সাড়ম্বরে। ঠিক কী কারণে মহিলারা উৎপাদনের কাজ থেকে বাদ পড়ছেন তা স্পষ্ট নয়।

এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, প্রকাশিত অক্সফ্যামের ‘অন উইমেনস ব্যাক, ইন্ডিয়া ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট, ২০২০’ সালের শুরুর লাইনটিই বলে, ‘দ্য হোম ইজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট কনটেস্টেড স্পেসেস হোয়েন ইট কামস টু জেন্ডার রিলেশনস।… ইট ইজ দ্য ব্রিডিং গ্রাউন্ড ফর জেন্ডার ইনইকুয়ালিটি’। গৃহ কাজের ব্যাপক চাপের বোঝা মহিলাদের আর্থিক রোজগারের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএলও-র ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তুলে ধরা হয়েছে, আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে প্রতিদিন বহু নারী বিনা মাইনের গৃহস্থালির কাজে পরিশ্রম করেন। অন্যদিকে কাজে পুরুষ শহরের ক্ষেত্রে ২৯ মিনিট ও গ্রামের ক্ষেত্রে ৩২ মিনিট মাত্র সময় ব্যয় করে থাকে। পাশাপাশি নারীদের এই সেবার কাজের কোনও স্বীকৃতিও আমাদের রাষ্ট্র বা সমাজ সাধারণত দিতে পারে না।

বিষয়টি ঠিক এমনই- নারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ভিত্তিতে দেশের উৎপাদনের চাকা নিয়মে গড়িয়ে চলতে থাকে। মহিলারা যথাসময়ে পুরুষদের খাওয়ার বন্দোবস্ত করেন রান্না-বান্নার মাধ্যমে। উপার্জন করা পুত্র ও স্বামী খাওয়া-দাওয়া করে কাজে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, নারীদের অর্থকরী কাজে অংশগ্রহণের নিম্নগতির অন্য কারণও রয়েছে। মহিলাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও ঘরে-বাইরে নির্যাতনও বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

দূরে বা কাছে কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বেশির ভাগ মহিলার পরিবারের অনুমতির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ২০১৯ সালের অক্সফ্যামের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারের অনুমতি ভিন্ন বাড়ির বাইরের জগতে পা রাখতে হলে ভারতবর্ষে ৫৪.৪ শতাংশ মহিলার কপালে অশান্তি ও দুর্ভোগ প্রাপ্তি হয়। অন্যদিকে ৮৬.৪ শতাংশ মহিলা কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দূরত্ব, যানবাহন ও স্বাধীনতার অভাবে অনেক নারীই বাড়ি থেকে দূরের কোনও কাজে অংশ নিতে পারেন না। আবার কাজের জায়গায় যৌন হেনস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই কারণেই অনেক নারী কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়ে থাকেন। এইসব কারণগুলি নারীদের রোজগারের সুযোগ খর্ব করছে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাবও নারীদের রোজগারের সুযোগকে কমিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে নারীদের অর্থকরী কাজের প্রশিক্ষণ বলতে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র বুঝে থাকে সেলাই, বড়ি, পাঁপড় ও বিউটিশিয়ান-সহ বেশ কয়েকটি কাজ।

খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *