শিক্ষারত্ন পুরস্কার পাচ্ছেন সুন্দরবনের অমল নায়েক

tiger widow

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের স্কুলছুট হয়ে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ফেরানোর দায়িত্ব নিয়ে ৫৯ বছর বয়সেও নিরলসভাবে কাজ করছেন সুন্দরবনের এক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অমল নায়েক। সুন্দরবনের সেই সব ঘরের ছেলেমেয়েদের, যাদের পিতারা জঙ্গলে মধু আনতে গিয়ে বাঘের শিকার হয়েছেন।

এমনকী মা সংসার চালাতে গ্রাম ছেড়ে শহরে পা রেখেছেন। মূলত সেই দুঃস্থদের বেছে নিয়ে নিজের কাছে রেখে খাইয়ে-পরিয়ে ও লেখাপড়া শেখান অমল মাস্টার। বাসন্তী স্কুলের শিক্ষক অমল নায়েক এ বছর শিক্ষারত্ন পুরস্কারে সম্মানিত হবেন বলে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সাল থেকেই নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন সুন্দরবনের শিবগঞ্জের পিছিয়ে পড়া ঘরের ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন না নিয়ে পড়াতে শুরু করেন অমলবাবু। এরপর তিনি শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্কুলছুট পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। আবার তিনি ১৯৮৪ সালে গড়ে তোলেন চম্পা মহিলা সমিতি নামে একটি সমিতি।

পাশাপাশি গোসাবায় ৩০০ জন এবং শিবগঞ্জে ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে স্কুল গড়ে তোলেন। তিনি তাঁর বেতনের অধিকাংশ টাকাই ব্যয় করেন পড়ুয়াদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ায় জন্য। এছাড়াও সুন্দরবনের পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ১৫ বিঘে জমি দান করেছেন সরকারকে। ইংরাজি মাধ্যম মডেল স্কুল গড়ে তোলার লক্ষেই এই ভাবনা। অমলবাবু শিক্ষা প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের ‘বাঘ বিধবাদে’র পুনর্বাসন থেকে আর্থ-সামাজিক দিকে পিছিয়ে পড়াদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *