প্রতিমা গড়া নিয়েই গভীর উদ্বেগে সুন্দরবনের মৃৎশিল্পীরা

Durga Pratima-2

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : সুন্দরবনের মৃৎশিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। স্থানীয় সূত্রের খবর, বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ ও স্বরূপনগর সীমান্ত সহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছেন অনেক মৃৎশিল্পী। হাড়োয়ার খলিসাদী গ্রামেও প্রতিমা শিল্পীরা বসবাস করেন। রাজ্যের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে এই সব শিল্পীদের প্রতিমা পৌঁছে যায়। আবার মহারাষ্ট্র, গুজরাত, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, বিহার, ওড়িশা-সহ ভিন রাজ্যেও তাঁদের গড়া প্রতিমা চলে যায়।

স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে এইসব অঞ্চলের প্রতিমা। রাজ্য সরকারের পুজো কার্নিভালেও শোভা পেয়েছে এই মৃৎশিল্পীদের তৈরি প্রতিমা। এবার পুজোর আগে সেই প্রতিমা তৈরি করা নিয়েই গভীর উদ্বেগে মৃৎশিল্পীরা। সম্প্রতি সুন্দরবনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব। এইসব এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের পর এঁটেল মাটির অভাব দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি রং, তুলি, সাজ-পোশাকের উপরে ১৮ শতাংশ জিএসটি-র বোঝা চেপে যাওয়ায় আরও কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছে মৃৎশিল্পীদের।

অন্যদিকে দুর্গাপ্রতিমার কাঠামো তৈরির জন্য পাটের দড়ি-সহ বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধিও সমস্যায় রেখেছে প্রতিমা শিল্পীদের। করোনা আবহে মৃৎশিল্পীদের সংসার চালাতেই নাজেহাল হতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পেশার প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক বা মহাজনদের থেকে ঋণ নিয়েছেন এই মৃৎশিল্পীরা। বকেয়া এই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে নতুন করে ঋণ পাওয়াও যাবে না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সুন্দরবনের মৃৎশিল্পীরা। করোনা পরিস্থিতিতে কতগুলি প্রতিমা এবার তাঁরা তৈরি করতে পারবেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *