চুল ঝরে যাওয়া নিয়ে চিন্তায়-জেনে নিন কী করণীয়

hair and fall

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:গরমে চুল ঘেমে যায়। এই সময় চুল উঠেও যায়। চুল নিয়ে চিন্তায় পড়েন বিশেষ করে মেয়েরা।এক্ষেত্রে ঠিক কী উপায় তা জেনে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের কাছে। সমাধান মিলবে ঝরে যাওয়া কেশরাশি উদ্ধারে। মাথাভর্তি একরাশ ঘন কালো চুল ঠিক রাখতে চান সবাই। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,চুল ঝরা নিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। শীতকালে মাথা কম ঘামে। চুলও কম পড়ে। গরম পড়লেই মাথা ঘামা শুরু হয়। চুল পড়া আরও বেড়ে যায়। এই সমস্যা মহিলাদের বেশি। কারণ মেয়েদের সাধারণত চুল বড়। খুব গরম পড়ার আগেই সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরা বলছেন,চুল হল কেরাটিন প্রোটিন। এরপর ঘাম এই প্রোটিনের স্পর্শে এলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুলও ঝরতে শুরু করে। যাঁদের ত্বক অয়েলি, ঘাম হলে আরও তেলতেলে হয়ে ওঠে। নোংরা জমতে শুরু করলে আরও সমস্যা বাড়ে। ফলে চুলও পড়তে শুরু করে। আবার ঘামলে স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। চুলের ক্ষতি হয়ে যায়। এর ওপর মাথায় খুশকি থাকলে সমস্যা আরও বাড়বে।

এক্ষেত্রে তেল ম্যাসাজ করা জরুরি। আমরা অনেকেই তেল মাখি না। তেল হল চুলের খাদ্য,এটা বোঝা দরকার । চুলকে খাবার না দিলে তা দুর্বল হয়ে যায়। সপ্তাহে দুদিন তেল মেখে ম্যাসেজ করাটা দরকার । তবে বিশেষ চাপ দেওয়া যাবে না। হালকা হাতে ম্যাসেজ করতে হবে। আবার আগেরদিন রাতে তেল মেখে পরেরদিন শ্যাম্পু করে নিতেও পারবেন। অন্যদিকে তেলযুক্ত চুল নিয়ে বাইরে বেরনো ঠিক নয়। এতে ধুলো নোংরা জমে বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হালকা নন স্টিকি তেল ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে
চুল খুব বেশি তেলতেলে হলে সপ্তাহে ৩-৪ দিন শ্যাম্পু করা উচিত। অতিরিক্ত তেল ধুয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের আরও বক্তব্য,সপ্তাহে ১-২দিন স্টিম নেওয়া যেতে পারে মাথায়। এরফলে রোমছিদ্রগুলি খুলে যায়। জমে থাকা ময়লা, তেল পরিষ্কার হয়ে যাবে। পার্লারে বা বাড়িতেও এটি করা যেতে পারে। তোয়ালে বা গামছা গরমজলে ভিজিয়ে এটি করতে পারেন। এটা শ্যাম্পু করার ঠিক ২০-৩০মিনিট আগে করতে হবে। চুল টাইট করে বাঁধা উচিত হবে না। এক্ষেত্রে চুলের গোঁড়ায় ঘাম জমে গেলে, যা থেকে চুল উঠতে শুরু করে। চুল হালকা করে বাঁধলে ভালো হয় । চুলে হাওয়া- বাতাস খেলতে থাকলে মাথা ঘামবে না। ঠিকমত চুল আঁচড়াতে হবে। সারাদিন পর বাড়ি ফিরে একবার ভালো করে চুল আঁচড়ানো দরকার। চুল আঁচড়ালে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। ঘামও কম জমতে থাকবে। চুলও সুস্থ থাকবে। বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন,দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। আবার অতিরিক্ত চিন্তা- ভয় এসব থেকে ঘাম বেশী হতে পারে। প্রতিদিন ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করতে পারেন। ভাজাভুজি খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। বেশি করে জল পান করা দরকার। এরফলে শরীর ও চুল দুটোই ভালো থাকবে। শাকসবজি, ফল ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *