ঝাড়গ্রামে মল্লদেব রাজপরিবারে দুর্গাপুজো ঘিরে এখনই উৎসাহ

Making Durga-1

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ঝাড়গ্রামের মল্লদেব রাজপরিবারে দুর্গাপুজোর শুরু। পুজো চলবে দেড় মাস ধরে। আর এই পুজোর বয়স ৪০০ বছর অতিক্রান্ত। এর আগে এমনটা কখনও ঘটেনি। এবারই প্রথম ঝাড়গ্রামের মল্লদেব রাজপরিবারে দুর্গাপুজো হবে দেড় মাসব্যাপী। সূত্রের খবর, এখানে দেবীর কোনও মূর্তি নেই। পটে আঁকা ছবিতেই দেবীর পুজো হয়ে থাকে। কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে দুর্গাপুজো শুরু। এই পুজো চলবে বিজয়া দশমী পর্যন্ত।

মল্লদেব রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আনুমানিক ১০১৬ বঙ্গাব্দে এই পুজো শুরু হয়েছিল। সেই পুজো এবার ৪১২-তম বর্ষে পদার্পণ করল। স্থানীয় সূত্রের খবর, রাজবংশের কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন কুলদেবী সাবিত্রী দেবীর মন্দির এই জায়গায় রয়েছে। আবার মন্দিরের ভিতরে রয়েছে চণ্ডীমণ্ডপ। পটে আঁকা ছবিতে ওই স্থানেই দুর্গাপুজো হয়। এ বিষয়ে জানা গিয়েছে, কুলদেবী সাবিত্রীর নিত্যপুজো হয় দুর্গার ধ্যানমন্ত্রে। এখন চণ্ডীমণ্ডপের বেদির সামনে দেওয়ালে চিত্রিত দেবীর পটে নবকলেবর করা হয়। সাবিত্রী মন্দিরের প্রাঙ্গণে বেলগাছের তলায় মঙ্গলঘট স্থাপন করা হল। এই পর্বের নাম- অধিবাস। কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে অস্ত্রপূজার মাধ্যমে এই পুজোর শুভারম্ভ হল।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজপরিবার থেকে খড়গ আনার পর বেলগাছের তলায় নবপত্রিকা সহকারে পুজো করা হয়। সেইমতো আমন্ত্রণ অধিবাস করে দেবীর মণ্ডপে নিয়ে আসা হয়। উল্লেখ্য, এ বছর আশ্বিন মাস মল মাস হওয়ায় দুর্গাষ্টমী কার্তিক মাসে পড়েছে। যার কারণে এক মাস ধরে দেবীর পুজো ও হোম, চণ্ডীপাঠ হবে। কথিত রয়েছে- গড় ঝাড়গ্রামের জংলি মাল রাজাকে হারিয়ে রাজ্যপাট দখল করেন রাজপুতানার সর্বেশ্বর। তাঁর রাজ্যভিষেকের দিনটিকে স্মরণ করে রাখতে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে ইন্দ্রাভিষেক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, সেই উৎসবের হাত ধরেই পরিবারের সমৃদ্ধি ও প্রজাদের মঙ্গলকামনায় রাজবাড়িতে ইন্দ্রের পুজো হয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শক্তিলাভের কামনা করে কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে অস্ত্রপুজোর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বোধন শুরু হয়। মহাষষ্ঠীর দিন রাত্রিবেলায় বেলগাছের তলায় মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়। এরপর সপ্তমীর দিন সকালে শোভাযাত্রা বের হয়। রাজবাড়ি থেকে খড়গ, রাজলক্ষ্মী, শালগ্রাম শিলা ও ঘট মন্দিরে নিয়ে যাওয়া পর্বগুলি চলে। এই পুজোতে দশমীর দিন ‘পাটাবিঁধা’ নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *