মস্কোর বৈঠকে সীমান্তে চীনের বিপুল সেনা সমাবেশের কোনও সদুত্তর নেই

Indo-China 3

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ মস্কোতে ভারত ও চীনের বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় চীনের অসহযোগিতার জন্য সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সেভাবে কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সীমান্তে যেভাবে চীনের দিক থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, তা নিয়েও ভারত কড়া আপত্তি জানায় ৷ সীমান্তে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করলেন উভয় দেশের বিদেশমন্ত্রী। বৈঠকে ভারত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, সীমান্তে উত্তেজনা বজায় থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরে তার প্রভাব পড়বেই। সুতরাং দুই দেশের স্বার্থেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সীমান্তে শান্তি ফেরানোর প্রয়োজন রয়েছে। সীমান্তে চীন যেভাবে বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে, তার কারণও জানতে চায় ভারত ৷ যদিও চীনের কাছে এর কোনও সদুত্তর পাওয়া যায় নি।

বৈঠকে চীনের দাবি, সীমান্ত পরিস্থিতির উপরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ভরশীল নয় ৷ ভারত এবং চীন উভয়েই উন্নয়নশীল দেশ। তাঁদের এক বিবৃতিতে স্বীকার করে নিয়ে চীন বলেছে, সংঘাতের বদলে উভয় দেশের সহযোগিতাই প্রয়োজন ৷ এক যৌথ প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে তাতে বলা হয়েছে, সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি উভয় দেশের স্বার্থের পক্ষেই ঠিক নয় ৷ দুই দেশের বাহিনীরই আলোচনার মাধ্যমে মুখোমুখি সংঘাতের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসা উচিত এবং যথাযথ পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে উত্তেজনা কমানোর জন্য পদক্ষেপ করা উচিত ৷ একই সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, চীনের এই বিপুল সেনা মোতায়েন, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তির পরিপন্থী। এই সেনা মোতায়েনের জন্যই বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও চীন এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সীমান্তে উত্তেজনার পুরো দায়টাই যেন ভারতের।

বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে চীনের ওয়াং ই ভারতকেই দায়ী করে বলেন, উত্তেজনা কমানোর জন্য সীমান্তে ভারতের তরফে প্ররোচনা বন্ধ করতে হবে ৷ ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও তোলা হয় ৷ চীনের এই অভিযোগ খারিজ করে ভারত বলেছে, চীন যদি ভেবে থাকে একতরফা ভাবে সীমান্তের স্থিতাবস্থা বদলে দেবে তা ভারতের পক্ষে মানা সম্ভব নয় ৷ চীনের দিক থেকেই বরং বহু ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মানা হয়নি এবং সীমান্তে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই তথ্যও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। অবশ্য দুই দেশই একমত হয়েছে যে, বর্তমান উত্তেজনার পরিস্থিতি একটু শিথিল হলেই ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘাত এড়ানোর কথা, যৌথ ভাবে বের করার চেষ্টা করা হবে, যাতে সীমান্তে শান্তি এবং সহাবস্থান বজায় থাকে ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *