অসীম শক্তির প্রতীক মা কালী

ramkrishna kali

সাধক রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীত বঙ্গের কালীপুজোর ইতিহাসে আজও স্মরণীয়। বাংলার ঘরে ঘরে এই সঙ্গীত এখনও অন্য মাত্রা বয়ে আনে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় মা মহাকালীর আরাধনা ঘিরে উন্মাদনা থাকে। মন্ডপে-মন্ডপে মন্দিরে-মন্দিরে জগৎ জননীর আবির্ভাব ঘটে। কালী মায়ের পুজো এখন আলোর উৎসবে মাতোয়ারা। এই পূণ্যলগ্নে জগৎ জননীকে স্মরণ করে থাকি আমরা। মায়ের চরণে প্রণাম নিবেদন করে থাকি। সব অশুভ শুভ করার লক্ষ্যে আলোয় আলোকিত করা হয়। কালীপুজোর এই অমাবস্যা আলোয় আলোয় ভরে উঠে। শুরু হয় মায়ের আরাধনা। এই পুজোর অতীতটা স্মরণ করলে চলে আসে কয়েকটি নাম। অন্যদিকে তান্ত্রিক ও ডাকাতদের পূজিতা দেবী মণ্ডপে মণ্ডপে পূজিত হয়ে চলেছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ মায়ের পুজোয় ব্রতী ছিলেন নিজমতে। প্রচলিত প্রথার বাইরে এসে তিনি পুজো করেছেন। তিনি বলেছেন,”যত মত তত পথ। ” তৎকালীন পুরোহিত সমাজের বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন। মৃন্ময়ী কালী মূর্তি চিন্ময়ী রূপে ধরা দিয়েছে। মায়ের অপার মহিমার কথা তুলে ধরেছেন। অসীম শক্তির প্রতীক মা কালী। তিনি দিগম্বরী। এই ত্রিনয়না দেবী মহামায়ার চন্ডরূপ। অন্যদিকে সাধক বামাখ্যাপা তারাপীঠের মা তারাকে আরাধনা করেছিলেন। মায়ের প্রসাদ নিজে ভক্ষণ করে এবং মায়ের জবার মালা নিজে পরে আরাধনা করেছেন।উনবিংশ শতাব্দীতে মূলত কলকাতার জমিদার বাড়িতে কালীপুজোর প্রচলন শুরু হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ,বামাখ্যাপা,কমলাকান্ত, রামপ্রসাদরা বঙ্গের কালীপূজোকে প্রসারিত করেছিলেন। আজও কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে রয়েছে শ্যামাসঙ্গীত। অসীম শক্তির প্রতীক মা কালী,তাই তাঁরা কালী কালী মন্ত্র জপে মায়ের আরাধনা করেছেন। (ছবিঃসংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *