ম্যানগ্রোভ প্রকৃতির ঢাল : তবুও লুপ্ত হচ্ছে প্রজাতি

Mangrove-1

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাঁচায় ম্যানগ্রোভই, তবুও লুপ্ত হয়ে গিয়েছে কিছু প্রজাতি। স্থানীয় সূত্রের খবর, পরিবেশ নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দপ্তর রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুমিরমারিতে। ওই দপ্তরের চারদিকে ম্যানগ্রোভ দেখতে পাওয়া যায়। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এলাকায় তাণ্ডব চালালেও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অফিসটিতে সেভাবে ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারেনি। ম্যানগ্রোভ ও বাস্তুতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই বলে থাকেন, ম্যানগ্রোভ প্রকৃতির ঢাল হিসেবে কাজ করে।

কুমিরমারি-সহ সুন্দরবন ও দেশের নানা প্রান্তের ম্যানগ্রোভ বেষ্টিত এলাকায় তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে আম্ফানের পর। ম্যানগ্রোভ ও বাস্তুতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে জানিয়েছেন, সুন্দরবনের বনাঞ্চলের তুলনায় জনপদ এলাকায় ম্যানগ্রোভের বিস্তার জরুরি। এক্ষেত্রে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ঝড়ের সময় উপকূলবর্তী জনপদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। লোকালয় লাগোয়া নদীর চর থেকে ম্যানগ্রোভ কাটা হলেও সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বন দফতরের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএফও সূত্রে জানা গিয়েছে, যা ম্যানগ্রোভ কাটা হচ্ছে সেটা লোকালয়ের দিকে। আমরা সেই সমস্ত এলাকা চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সুন্দরবনের স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, বিপদ একদিনে আসেনি। মানুষ ধীরে-ধীরে ধ্বংস করেছে ম্যানগ্রোভকে। তার ফলে সুন্দরবন থেকে প্রায় লুপ্ত হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু প্রজাতির ম্যানগ্রোভ। এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, এক সময় বাদাবনের জনপদগুলিতে গড়িয়া বা ক্যান্ডেলিয়া ক্যান্ডল, কৃপাল বা লুমনিড জেরা লতাসুন্দরী নামে প্রচুর গাছ ছিল। এখন তা দেখাই যায় না। প্রকৃতি থেকে কোনও গাছ হারিয়ে যাওয়া মানে তাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তা না হলে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে সেই গাছগুলির অবলুপ্তি ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *