মানসিক স্বাস্থ্যের পুনর্বাসনে সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

mental and health

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: করোনা আবহে মানসিক রোগের দাপট বেড়েছে। পরিস্থিতি ভিন্ন হাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে মানুষের। একটি সমীক্ষায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, এই অবস্থায় হেল্পলাইনে সবচেয়ে বেশি ফোন আসছে পুরুষদের। মহিলাদের তুলনায় কম। মানসিক স্বাস্থ্যের পুনর্বাসনের জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সবচেয়ে বেশি ফোন আসছে পুরুষদের।এক্ষেত্রে আরও জানা গিয়েছে, মন্ত্রকের হেল্পলাইনে সাহায্য চেয়ে ফোন আসে পুরুষদের, যা প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি।

বিশ্বজুড়ে করোনার প্রভাবে মানসিক রোগের শিকারের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে দেশের সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট মন্ত্রক। এক্ষেত্রে তারা দাবি করেছে, মানসিক স্বাস্থ্যের পুনর্বাসনের জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সবচেয়ে বেশি ফোন করেন পুরুষরা। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গড়ে ওঠা এই হেল্পলাইন নম্বরের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। যার ৭০ শতাংশ পুরুষের মধ্যে ৩২ শতাংশই আবার পড়ুয়া।

সূত্রের আরও খবর, সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট মন্ত্রকের অধীনে এই কিরণ হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০-৫৯৯-০০১৯) টি গড়ে উঠেছে গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০সালে। এরপর একটি আভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ সাল থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ৫৫০টি ফোন এসেছে। যার মধ্যে ৭০.৫ শতাংশ ফোন এসেছে পুরুষদের। বাকি ২৯.৫ শতাংশ ফোন এসেছে মহিলাদের । অন্যদিকে ১৬১৮টি ফোন বিশেষজ্ঞরা করেছেন এইসব মানুষদের সাহায্য করার জন্য।

উল্লেখ করা যায়, বেশিরভাগ কলারদের মধ্যে ৭৫.৫ শতাংশই হল ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ। আবার মাত্র ১৮.১ শতাংশ পুরুষ ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এই সব কলারদের মানসিক অবসাদের স্টেজ অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৫.৯ শতাংশ “স্বল্প অবসাদগ্রস্ত”। পাশাপাশি ২৬.৫ শতাংশ তার চেয়ে খানিকটা বেশি। ৭.৫ শতাংশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। ৩২.৩ শতাংশ কলার পড়ুয়া, ১৫.২ শতাংশ ব্যবসায়ী বা নিজেদের প্রতিষ্ঠান চালান এবং ২৭.১ শতাংশ চাকুরিজীবী। ২৩.৩ শতাংশ বেকার এবং ১.৪ শতাংশ বাড়ির কাজে নিযুক্ত। ০.৭ শতাংশ তাঁদের কাজের জায়গা উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে আরও জানা যায়, এঁদের মধ্যে ৭৮.২ শতাংশ কলার নিজেদের জন্য সাহায্য চেয়েছেন। বাকিরা নিজেদের পিতা- মাতার জন্য সাহায্য চেয়ে ফোন করেছেন মন্ত্রকের হেল্পলাইন নম্বরে। কলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারাত্মক উৎকণ্ঠার শিকার। ২৫.৫ শতাংশ অবসাদগ্রস্ত, বাকিরা অতিমারির ফলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। ২.৮ শতাংশ আত্মহত্যাপ্রবণ। বাকিরা কোনও ভাবে হেনস্থা ও বাকিরা নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছেন।

এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ফোন এসেছে দেশের উত্তর ভাগ থেকে। তা প্রায় ৪০.৩১ শতাংশ। পশ্চিম ভাগ থেকে ২৭.০৮ শতাংশ, দক্ষিণ ভাগ থেকে ১৬.৯৯ শতাংশ, পূর্ব থেকে ১১.২৮ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্ব থেকে ৪.৩৩ শতাংশ। আবার ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ফোনের সংখ্যা বেড়ে যোগ হয়েছে ১৫ হাজার ১৭০ টি কল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *