তন্ত্র মতে কালীপুজো হবে দক্ষিণ বিষ্ণুপুরে

kali pujo

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের করুণাময়ী শ্মশানে একটি স্বপ্নের আদেশের ভিত্তিতে ১০৭ বছর আগে কালীপুজো শুরু হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুরাতন রীতি অনুসারে তন্ত্র মতে ১০৮ টি নরমুন্ডের সাহায্যে একটি ভয়াবহ পরিবেশে কালীমাতার পূজা করা হয়। রাতে শিয়ালভোগের পাশাপাশি মদ, মাংস এবং ছোলা দেওয়া হয়। মাতৃ মূর্তির চোখ এবং জিভ সোনার তৈরি। হাতে রয়েছে রুপোর খাঁড়া। পুজোর দিন মাকে সোনার গয়না পরানো হয়ে থাকে। এই পুজো দেখার জন্য মন্দিরে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। এবার স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পুজো করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মন্দির রং করার কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের চক্রবর্তী পরিবার বংশ পরম্পরায় এই পুজো চালিয়ে আসছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে আরও খবর, ওই পুজোর পুরোহিত হলেন ৭৭ বছর বয়সী শ্যামল চক্রবর্তী। পুরোহিত জানিয়েছেন, ১০৭ বছর আগে বাবা মণিলাল চক্রবর্তী স্বপ্নে মায়ের আদেশ পেয়েছিলেন। এরপরে বাবা গঙ্গার তীরে এই কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পরে কাকা ফণীভূষণ চক্রবর্তী এই পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপরে ১৪ বছর বয়সে কাকার কাছ থেকে তন্ত্রবিদ্যা শিখে পুজোর ভার নিয়েছি।
তাঁর আরও বক্তব্য, প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার মায়ের পাঁচবার পূজা করা হয়। ১০৮টি নরমুন্ডকে সাক্ষী রেখে মাকে পূজা করা হয়। পঞ্চমুন্ডের আসনে বসেই মায়ের পূজা করা হয়ে থাকে। নিয়ম-নীতি অনুযায়ী পুজোর আগে এই নরমুন্ডগুলিতে রং করা হয়। পরে এতে সিঁদুর পরানো হয়। এই পুজোয় ছাগল বলির সাথে লাউ ও আখও বলি দেওয়া হত। এছাড়াও ১০৮ টি প্রদীপ এবং ১০৮ টি পদ্ম মাকে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *