পীরের মেলা ঘিরে আজও সম্প্রীতির বার্তা

FARE

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ৩৫০ বছর ধরে সম্প্রীতির ধারক এই পীরের মেলা। স্থানীয় সূত্রের খবর, পীর পুকুরে সিন্নি ভাসিয়ে পূর্ণ হয় মনস্কামনা। এই মেলার মূল ‘ঐতিহ্য’ হল সম্প্রীতি। উল্লেখ করা যায়, আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে বিশ্বাস আর সম্প্রীতিকে সামনে রেখে এর আয়োজন হয়। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হুগলীর ধনেখালিতে আজও সেই পীরের মেলায় হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখেন। ধনেখালি থানায় পারাম্বুয়া শাহ বাজার পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পয়লা মাঘ থেকে তা শুরু হয়ে চলে ৭ দিন ব্যাপী। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির জেরে অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে। ঐতিহ্য বজায় অবশ্য রয়েছে।

এবছরও হাওড়া, হুগলী, দুই ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া ও বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মেলাতে ভিড় করেছেন। হিন্দু- মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পীর পুকুরে সিন্নি ভাসিয়ে মঙ্গল কামনা করেছেন। পাশাপাশি মাজারে চলেছে প্রার্থনাও। মেলার নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। পীর সাহেবের মাজার এর পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, ১৬৭০ সালে হিন্দু ও মুসলিমকে একই ডোরে গোলাম আলি কেরমানি ধনেখালিতে এই মাজার প্রতিষ্ঠা করেন। আরও জানা যায়, আলী সাহেবের আদি বাস ইরানের কেরমান শহরে। একসময় তাঁর পূর্ব পুরুষরা বীরভূমের পারুই থানা এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। সৈয়দ শাহ আবদুল্লা কেরমানি ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন।

উল্লেখ্য, ধনেখালির মত বর্ধমান ও বাঁকুড়াতেও পীর সাহেবের মাজার রয়েছে। এবিষয়ে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মনস্কামনা পূরণের জন্য হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ওই পুকুরে স্নান করেন। কলাপাতায় সিন্নি ভাসিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক্ষেত্রে ভক্তদের বিশ্বাস সিন্নি জলে ভাসতে ভাসতে যদি নিজের হাতে ফিরে আসে তাহলে তাঁদের মনস্কামনা পূরণ হয় বলে মনে করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই বিশ্বাস আজও অটুট। মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার পর অনেকেই ফকির ও দরিদ্রদের খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *